চলতি বছরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ। অতীতে এমন উত্থান বড় দরপতনের ইঙ্গিত দিলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী বছর পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। বরং ২০২৬ সালেও স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীর পরিধি সম্প্রসারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালা, ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক কারণে জেপি মরগান, ব্যাংক অব আমেরিকা এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেটালস ফোকাস মনে করছে, ২০২৬ সালে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।
গত মার্চের আগে স্পট গোল্ডের দাম কখনোই ৩ হাজার ডলার ছাড়ায়নি। তবে অক্টোবরে তা রেকর্ড ৪ হাজার ৩৮১ ডলারে পৌঁছায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বাড়তি চাহিদা এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহই এ উত্থানের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার কৌশলবিদ মাইকেল উইডমারের মতে, বেশি মুনাফার প্রত্যাশা ও বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনার প্রবণতা স্বর্ণ কেনাবেচা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ও চলতি হিসাবে ঘাটতি কমানোর প্রচেষ্টা এবং দুর্বল ডলারের নীতিও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে মেটালস ফোকাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিলিপ নিউম্যান বলেন, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ, শুল্ক বিরোধ এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা—বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক—স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির গতি বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা পঞ্চম বছরের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রিজার্ভে বৈচিত্র আনতে ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে সরে এসে স্বর্ণ কিনছে। সাধারণত দাম কমলে এসব ব্যাংক স্বর্ণ কেনে, যা বাজারে শক্ত ভিত্তি তৈরি করে।
জেপি মরগানের বেস ও মূল্যবান ধাতু কৌশল বিভাগের প্রধান গ্রেগরি শিয়ারার বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক চাহিদাই স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে দীর্ঘস্থায়ী করছে।
জেপি মরগানের হিসাব অনুযায়ী, স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল রাখতে প্রতি ত্রৈমাসিকে প্রায় ৩৫০ মেট্রিক টন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগ চাহিদা প্রয়োজন। তবে ২০২৬ সালে এই চাহিদা গড়ে প্রতি ত্রৈমাসিকে ৫৮৫ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে।
মরগান স্ট্যানলি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম হতে পারে ৪ হাজার ৫০০ ডলার। জেপি মরগানের মতে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গড় দাম ৪ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি এবং চতুর্থ প্রান্তিকে তা ৫ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে। মেটালস ফোকাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।





















