রাতের ঢাকা তখন নিঝুম। কিন্তু একটি ডেস্কে বসে নয়জন প্রকৌশলী তখন লগইন করছেন সাত হাজার মাইল দূরের এক সার্ভারে। এটি কোনো সাধারণ অফিস নয়, এটি ‘ক্যাজুয়াল ডাইনামিকস ল্যাব’ বা সিডিএল-এর ডিজিটাল হেডকোয়ার্টার।
এই সিডিএল-এর সিইও হাসিবুল হক। জন্ম যশোরে, পড়েছেন নটর ডেম আর বুয়েটে। মাইক্রোসফট ও উবারে কাজ করার পর এখন তিনি নেমেছেন এক বিশাল চ্যালেঞ্জে। তাঁর লক্ষ্য? এআই-এর দুনিয়ায় বিপ্লব ঘটানো। তিনি বেছে নিয়েছেন ঢাকার মেধাবী প্রকৌশলীদের, কারণ তাঁর ভাষায়- এটি তাঁর দেশপ্রেম।
কিন্তু সিডিএল কেন আলাদা? বর্তমান চ্যাটবটগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর সব ভুলে যায়। কিন্তু সিডিএল তৈরি করেছে ‘সিয়েলারা’। এটি একটি ‘ওয়ার্ল্ড মডেল’। যেখানে সাধারণ এআই ১০ লাখ টোকেন ধরে রাখতে পারে, সিয়েলারা সেখানে কাজ করে ১২ কোটি ৫০ লাখ টোকেন নিয়ে! অর্থাৎ, একটি কোম্পানির পুরো সফটওয়্যার সিস্টেম তাদের নখদর্পণে।
ফলাফলটা কী? হ্যাকারনুন এবং ইয়াহু ফাইন্যান্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোডিং পরীক্ষায় সিডিএল হারিয়ে দিয়েছে ক্লদ আর ওপেনএআই-এর মতো জায়ান্টদের। গুগল জেমিনাই যেখানে ২৬ শতাংশ স্কোর করে, সেখানে সিডিএলের ‘রিজোনারা’ সিস্টেম স্কোর করেছে ৭৩ শতাংশ!
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো খরচ। সিডিএল তাদের গ্রাহকদের এআই পরিচালনার খরচ কমিয়ে এনেছে ৯৮ শতাংশ! অর্থাৎ, যে কাজ আগে ১০০ ডলারে হতো, এখন তা হচ্ছে মাত্র ২ ডলারে।
এই অসাধ্য সাধনের পেছনে আছেন বুয়েট থেকে আসা আজমত ইকবাল, মাহবুব মোর্শেদ, শুভাশিস রায়সহ একঝাঁক মেধাবী তরুণ। আর গবেষণায় যুক্ত আছেন এমোরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাইক্রোসফট রিসার্চের বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ড. লিয়াং ঝাও এবং ড. জুচাও ঝাং।
৮০ লাখ ডলারের ফান্ডিং আর বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ কোম্পানির মধ্যে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের ভরসার জায়গা এখন এই সিডিএল। যশোর থেকে উঠে আসা হাসিবুল হকের এই দলটি প্রমাণ করছে, মেধা থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে সিলিকন ভ্যালিকে টেক্কা দেওয়া সম্ভব।





















