মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এ নিযুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসককে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বুধবার (৪ মার্চ) নগদের প্রশাসক টিমের সঙ্গে এক বৈঠকে গভর্নর জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে থাকা সমীচীন নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মালিকানা ও লাইসেন্স বিতর্ক
মুখপাত্র জানান, নগদ এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স পায়নি, বরং অন্তর্বর্তীকালীন লাইসেন্সে পরিচালিত হচ্ছে। ৪-৫ কোটি গ্রাহকের লেনদেনের নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্তে দেখা গেছে, ডাক বিভাগের বাইরে নগদের অন্যান্য মালিকরা যে পরিমাণ অনিয়ম করেছেন, তাতে প্রতিষ্ঠানটির নিট সম্পদ (Net Asset) বর্তমানে নেতিবাচক (Negative) হয়ে পড়েছে। ফলে আগের পর্ষদের আর ফেরার কোনো সুযোগ নেই। এখন ডাক বিভাগই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করবে অথবা নতুন বিনিয়োগকারীর হাতে তুলে দেবে।
ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র: ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার গরমিল
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন টিম এবং আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম কেপিএমজি (KPMG)-এর ফরেনসিক নিরীক্ষায় নগদে ভয়াবহ আর্থিক জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে:
ই-মানি জালিয়াতি: ভুয়া পরিবেশক ও এজেন্ট দেখিয়ে অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক অর্থ বা ই-মানি তৈরি করা হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার হিসাব গরমিল পাওয়া গেছে।
সরকারি ভাতার টাকা আত্মসাৎ: অনুমোদন ছাড়াই ৪১টি পরিবেশক হিসাব খুলে ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে, যা মূলত সরকারি ভাতা বিতরণের জন্য নির্ধারিত ছিল।
অতিরিক্ত ই-মানি: প্রকৃত টাকা জমা ছাড়াই অন্তত ৬৪৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত ই-মানি ইস্যু করা হয়েছে, যা সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নগদের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানভীর আহমেদসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে যান। অনুপস্থিতি ও অনিয়মের অভিযোগে ২১ আগস্ট প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর সিইও তানভীর আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ (এলিট), মারুফুল ইসলাম (ঝলক), উপ-প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা সোলায়মান সুখন এবং মানবসম্পদ কর্মকর্তা অনিক বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বরখাস্ত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, নগদের বর্তমান যে সম্পদ পরিস্থিতি, তাতে এটি টিকিয়ে রাখতে হলে বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রয়োজন। ডাক বিভাগ যদি মনে করে, তবে তারা নতুন কোনো যোগ্য বিনিয়োগকারীর কাছে নগদের মালিকানা হস্তান্তর করতে পারে। গ্রাহকদের লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য।






















