শুধু তেল বা তরলীকৃত গ্যাস নয় বিশ্বের প্রায় ৩৭ শতাংশ ডেটা ট্রাফিক হয় ফ্যালকন, সি-মি-উই-৪, আই-মি-উই এবং ইউরোপ-পার্সিয়া এক্সপ্রেস গেটওয়ে দিয়ে। এসব ক্যাবল ভারতের মুম্বাই ও চেন্নাইসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরকে বৈশ্বিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রাখে। ফলে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কি প্রভাবিত হতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা জানাগেলো, বাংলাদেশের ইন্টারনেট সেবাদাতাদের মূল ক্যাবল সরাসরি ডিজিটাল চেকপয়েন্ট খ্যাত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায় না। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ডেটা ট্রাফিক প্রধানত লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর হয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালীর সমস্যাটা প্রথম ধাক্কায় বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না বলেই নিশ্চিত করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে সাবমেরিন ক্যাবলস লিমিটেড পিএলস’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আরিফুল হক বলেন, বাংলাদেশ প্রধানত সি-মি-উই-৪।এবং সি-মি-উই-৫–এর ওপর নির্ভরশীল। এই ক্যাবলগুলো সরাসরি হরমুজ দিয়ে যায় না, তাই ওই প্রণালি বন্ধ হলেও দেশের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই।
তবে ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাজ্যের সংঘাত পরিস্থিতি শুধু ইন্টারনেট নয়, ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড ব্যবসার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশসজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট ব্যবস্থার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সরাসরি ও পরোক্ষ- দুই ধরনের প্রভাবই পড়তে পারে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
এ বিষয়ে প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, যদি এই যুদ্ধের কারনে হরমুজ প্রণালী কিম্বা আরব সাগরে সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সক্ষমতা হ্রাস পাবে, সেবার মান নিম্নগামী হবে।




















