দেখতে সুফি সাধকের মতো লেবাস হলেও ভেতরে তিনি একজন দুর্ধর্ষ চোরাকারবারি। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বলদা বাজারের বাসিন্দা হাসান মোহাম্মদ ওরফে হাসান হুজুর গত এক যুগ ধরে গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক। যার বিস্তৃতি সীমান্ত পেরিয়ে রাজধানীর মোতালেব প্লাজা ও গুলিস্তানের হল মার্কেট পর্যন্ত।
অদৃশ্য নেটওয়ার্ক ও সেকেন্ড-ইন-কমান্ড
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসান হুজুরের এই সিন্ডিকেটে রয়েছে অর্ধশতাধিক ক্যারিংম্যান, বর্ডার ক্রসিংম্যান এবং দক্ষ চালক। লরিবাগের নাসির উদ্দিন তার ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পুরো অপারেশন পরিচালনা করেন। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার আশাবাড়ি ও তেতাভূমি সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে দেশে আসছে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন, ডিসপ্লে, শাড়ি, লেহেঙ্গা এবং কসমেটিকস।
নিলামের কাগজে চোরাচালানের নতুন কৌশল
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে হাসান হুজুর এখন গ্রহণ করেছেন এক অভিনব কৌশল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিজিবির কাছ থেকে নিলামে কিছু ভারতীয় পণ্য উচ্চমূল্যে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সেই নিলামের বৈধ কাগজ দেখিয়ে কয়েকগুণ বেশি চোরাই পণ্য নিরাপদে ঢাকায় পাচার করেন।
ম্যানেজ হচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা!
বিস্ময়কর তথ্য হলো, ব্রাহ্মণপাড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথে পণ্য পৌঁছাতে বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইউনিটগুলোকে ‘ম্যানেজ’ করে চলে এই সিন্ডিকেট। মিরপুর হাইওয়ে ফাঁড়ি, বাঙ্গরা বাজার থানা, মুরাদনগর, হোমনা, তিতাস ও দাউদকান্দি হাইওয়ে থানাসহ একাধিক ইউনিটের নাম উঠে এসেছে এই অবৈধ লেনদেনের তালিকায়।
কোথায় যাচ্ছে এই চোরাই পণ্য?
ঢাকার মোতালেব প্লাজার নুরুল ইসলাম এবং মিঠু সিন্ডিকেটের কাছে নিয়মিত এসব মোবাইল ও ডিসপ্লে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া গুলিস্তানের বিভিন্ন মার্কেটেও ছড়িয়ে পড়ছে এসব অবৈধ পণ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হাসান হুজুর এই কারবারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন।
হাসান হুজুর ও প্রশাসনের বক্তব্য
নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে হাসান মোহাম্মদ বলেন, “আগে মোবাইল চোরাচালান করেছি এবং তখন পুলিশ-প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে হয়েছে। তবে এখন আমি নিলামের পণ্য বিক্রি করি।” কসবার ‘লেংরা হাসান’ নামে আরেক বড় ব্যবসায়ীর সাথে নিজেকে গুলিয়ে না ফেলারও অনুরোধ করেন তিনি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি টমাস বড়ুয়া জানান, হাসান হুজুর নামে কাউকে তিনি চেনেন না। তবে বিষয়টি এখন নজরে আসায় দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















