দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছে। তবে উৎপাদনের সঙ্গে চাহিদার বিস্তর ফারাক থাকায় শহর ও গ্রামের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক চরম বৈষম্য। রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিং ১-২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও গ্রামগুলোতে দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ মিলছে না।
২ হাজার মেগাওয়াটের দোরগোড়ায় ঘাটতি
পিডিবি ও পিজিসিবি-র তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিনে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ১৯৩২ মেগাওয়াট পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।
অঞ্চলভেদে লোডশেডিংয়ের বৈষম্য চিত্র
বিদ্যুৎ সরবরাহে রাজধানী ঢাকা অগ্রাধিকার পেলেও মফস্বল ও গ্রামগুলো চরম অবহেলার শিকার।
বরিশাল বিভাগ: বিদ্যুৎ না থাকার সময় বিবেচনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল। এখানে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।
রাজশাহী ও খুলনা: দিনে ৫ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ গিয়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা: উপজেলা শহর ও গ্রামে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, কোনো কোনো এলাকায় ১৬-১৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।
ঢাকা শহর: ঢাকার অনেক এলাকায় লোডশেডিং প্রায় শূন্যের কাছাকাছি হলেও শহরতলী ও গ্রামে ৬-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।
কৃষি ও শিল্পে অশনিসংকেত
লোডশেডিংয়ের প্রভাব সরাসরি পড়ছে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি ও শিল্প খাতে:
১. বোরো সেচ: বোরো মৌসুমে সেচ পাম্প পর্যাপ্ত চালাতে না পারায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। নওগাঁ, নাটোর ও কুড়িগ্রামে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।
২. শিল্প উৎপাদন: গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় গার্মেন্টস ও কারখানাগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় উৎপাদন খরচও বাড়ছে বহুগুণ।
৩. তাঁত শিল্প: লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁত শিল্পে উৎপাদন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি সংকট ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৯৪ মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে অর্ধেকের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। আসন্ন মে ও জুন মাসে তাপমাত্রা আরও বাড়লে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


















