দেশের ইলেকট্রনিকস খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সনি র্যাংগসের (র্যাংগস ইলেকট্রনিকস লিমিটেড) বিরুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অর্থ পাচার ও পণ্য জালিয়াতির অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) শীর্ষ তিন কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (ফেব্রুয়ারি ১৬) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন।
যাঁদের ওপর নিষেধাজ্ঞা
আদালতের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন—
১. একরাম হোসেন: ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), র্যাংগস ইলেকট্রনিকস লিমিটেড।
২. বিনাস হোসেন: ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) এবং এমডির ভাই।
৩. সাচিমি ওগাওয়াড়া হোসেন: পরিচালক।
আদেশে আদালত জানান, অভিযুক্তরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁরা বিদেশে পালিয়ে গেলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান ব্যাহত হতে পারে।
অভিযোগের ধরন: অর্থ পাচার ও শেল কোম্পানি
দুদকের দাবি, অভিযুক্তরা সিঙ্গাপুরে ‘ট্রাস্ট মোটো’ (Trust Motto Pte Ltd) এবং ‘মেটলোক’ (Metloco Pvt Ltd) নামে দুটি শেল কোম্পানি বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। এই কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে গত কয়েক বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এছাড়া বিগত ৩৫ বছরে আন্ডার-ইনভয়েসিং ও ওভার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার তথ্যও দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দেশি পণ্যে বিদেশি লেবেল: গ্রাহক প্রতারণা
অনুসন্ধানে জালিয়াতির আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে দুদক। প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় ব্র্যান্ড ‘ওয়ালটন’-এর কারখানায় উৎপাদিত ফ্রিজ ও এসি সংগ্রহ করে সেগুলোতে বিদেশি ব্র্যান্ডের লেবেল লাগিয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে আসছিল বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর ধরে সাধারণ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
দুদকের বর্তমান পদক্ষেপ
দুদক জানিয়েছে, অভিযুক্তরা তাঁদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর ও হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। বর্তমানে অনুসন্ধানকারী দল তাঁদের নামে দেশে-বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব যাচাই করছে।
আদালতের আদেশের পর দেশের সকল ইমিগ্রেশন পয়েন্টে অভিযুক্তদের পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে তাঁরা কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারেন। দুদকের এই অনুসন্ধান কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।




















