পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। এ সময়ে ব্যাংকটির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ইউসিবির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইউসিবির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৪ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৯৭ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি ইউসিবির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৭১ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ইউসিবির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৪৫ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৪২ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ইউসিবির পর্ষদ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ছিল। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ২৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৮১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশের দিয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৩৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৫৭ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল ইউসিবির পর্ষদ। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরেও ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি।
ইউসিবির সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি টু’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।
১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউসিবির অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৫০ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৩০৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫৫ কোটি ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯৮। এর ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে দশমিক ৮১, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৩৬ দশমিক ৭৪, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ৫০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫১ দশমিক ৬৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




















