বিশ্বজুড়ে এআই ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতেই এ সংকটে পড়েছে মাইক্রোসফট। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে নেয়া টেক কোম্পানিগুলোর উচ্চাভিলাষী পরিবেশবিষয়ক পরিকল্পনাগুলো এখন অনিশ্চয়তার মুখে। খবর টেকক্রাঞ্চ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইক্রোসফট ‘আওয়ারলি ক্লিন এনার্জি ম্যাচিং’ বা ঘণ্টাভিত্তিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্মূল্যায়ন করছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যবহৃত বিদ্যুতের শতভাগ প্রতি ঘণ্টায় নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়েছিল। এ লক্ষ্যমাত্রা সাধারণ বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও সুনির্দিষ্ট। কারণ এতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়। তবে বর্তমানে এআই সেবার জন্য যে বিশাল অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, তাতে এ লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রতি ঘণ্টার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা অনেক বেশি কঠিন। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রায় অনেক সময় হিসাবের মারপ্যাঁচ থাকে। সেখানে দিনের বেলা সৌরবিদ্যুৎ কিনে রাতের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানো হয়। কিন্তু মাইক্রোসফটের নেয়া ‘আওয়ারলি’ লক্ষ্যমাত্রাটি সফল হলে গ্রিডে ২৪ ঘণ্টা নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত হতো। এখন এ লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরে এলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এআই ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এ বিপুল চাহিদা মেটাতে গিয়ে মাইক্রোসফট এখন প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপরও নির্ভর করতে শুরু করেছে। সম্প্রতি টেক্সাসে একটি বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানটি শেভরনের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে মাইক্রোসফটের লক্ষ্য ছিল তাদের কার্যক্রম থেকে নির্গত কার্বনের চেয়ে বেশি পরিমাণ কার্বন বায়ুমণ্ডল থেকে সরিয়ে ফেলা।
মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এ অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা নিজেদের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে সাধারণ মানুষও এখন বিভিন্ন এলাকায় বড় ডেটা সেন্টার স্থাপনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে এবং পানির অপচয় হতে পারে। এমতাবস্থায় পরিবেশগত প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে গেলে মাইক্রোসফট জনরোষের মুখে পড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। মূলত এআইয়ের দৌড়ে টিকে থাকা এবং পৃথিবী রক্ষা করার এ দ্বিমুখী লড়াইয়ে মাইক্রোসফট এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।




















