দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনকভাবে বাড়ছে। হঠাৎ এই দরবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১২ কার্যদিবসে বেড়েছে ৫৬ শতাংশের বেশি
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২ জুন আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারের দাম ছিল ১৮.৯০ টাকা। অথচ মাত্র ১২ কার্যদিবসের ব্যবধানে গত ১৮ জুন তা এক লাফে ২৯.৬০ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ এই স্বল্প সময়ে শেয়ারটির দাম ১০.৭০ টাকা বা ৫৬.৬১ শতাংশ বেড়েছে। অবশ্য গত রবিবার (সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে) দাম কিছুটা সংশোধন হয়েছে। তবে হঠাৎ এই দাম বাড়ার পেছনে কোম্পানিটির কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (PSI) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির খবর নেই। ফলে এই শেয়ারটি নিয়ে বড় ধরনের কারসাজির সন্দেহ জোরালো হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ মে ডিএসই কোম্পানিটিকে দাম বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠালেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কাছে কোনো অপ্রকাশিত বা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। এই জবাবের পরই কারসাজির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। একই সঙ্গে বিএসইসির সার্ভিলেন্স বিভাগ কোম্পানিটির লেনদেন কঠোর নজরদারিতে রেখেছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, “আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারের দাম বাড়া এবং লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করে কমিশন। বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। তদন্তে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্তের আওতায় যা থাকছে
বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিএসইর তদন্তে মূলত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে:
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো সমন্বিত কারসাজিমূলক বা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে কি না।
অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ সংঘটিত হয়েছে কি না।
সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, ডিলার ও প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না।
সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কোনো অবহেলা বা দায় আছে কি না।
বিএসইসির মতে, এই সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিধিমালা, ২০০০-এর আচরণবিধি ও বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন।
২০০৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পরিশোধিত মূলধন ৪২৯ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির ৪০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তাদের হাতে। এছাড়া সরকারের হাতে ২১.৮৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৯.১২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৮.৯৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


















