স্মার্টফোন ইউজারদের কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হলো ‘লো-ব্যাটারি’ নোটিফিকেশন। তবে ২০২৬ সালের কারেন্ট ট্রেন্ড অনুযায়ী সেই দিন এবার ফুরিয়ে এলো! বাজারে টেকনো (Tecno), অনার (Honor), রেডমি (Redmi)-সহ শীর্ষস্থানীয় গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো এখন প্রতিযোগিতায় নেমেছে দানবীয় ক্ষমতার ব্যাটারি নিয়ে। বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যেই ৭,০০০ এমএএইচ (7000mAh) থেকে শুরু করে একেবারে ১০,০০০ এমএএইচ (10000mAh) বা তার চেয়েও বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি সংবলিত স্মার্টফোন একের পর এক বাজারে আসছে।
সবচেয়ে ক্রেজি পার্ট হলো, ব্যাটারির ধারণক্ষমতা দ্বিগুণ হলেও ফোনগুলো কিন্তু আগের মতো মোটা কিংবা ভারী হয়ে যাচ্ছে না। উল্টো ফোনগুলো দেখতে বেশ স্লিম আর স্টাইলিশই থাকছে!
স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রির এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের পেছনের আসল রহস্যটি চলুন জেনে নেওয়া যাক:
স্মার্টফোনে এই নতুন বিপ্লবের মূলে রয়েছে ‘সিলিকন-কার্বন’ (Silicon-Carbon / SiC) অ্যানোড ব্যাটারি প্রযুক্তি। এতকাল আমরা যে ট্র্যাডিশনাল ‘লিথিয়াম-আয়ন’ ব্যাটারি ব্যবহার করে এসেছি, তার একটি নির্দিষ্ট আকৃতি ও শক্তির সীমাবদ্ধতা ছিল। ৫,০০০ এমএএইচ-এর বেশি ব্যাটারি দিতে গেলেই ফোন ইট বা পাওয়ার ব্যাংকের মতো মোটা হয়ে যেত।
কিন্তু নতুন এই সিলিকন-কার্বন ম্যাটেরিয়ালের এনার্জি ডেনসিটি (Energy Density) বা শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষমতা সাধারণ লিথিয়াম ব্যাটারির চেয়ে বহুগুণ বেশি। ফলে একই সাইজের বা তার চেয়েও পাতলা আবরণের মধ্যে অনায়াসে ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ এমএএইচ বা তার বেশি পাওয়ার লক করে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ পাওয়ার পাশাপাশি হ্যান্ডসেটটিকে রিফাইন্ড ও স্লিম রাখা ব্র্যান্ডগুলোর জন্য পান্তা ভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টেকনো ও রেডমি: টেকনো তাদের লেটেস্ট ‘পোভা ৮’ সিরিজের মাধ্যমে বাজেট ও মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে সরাসরি ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি অফার করে গেম শুরু করে দিয়েছে। অন্যদিকে শাওমি’র রেডমি সিরিজও তাদের নতুন আপকামিং মডেলগুলোতে ৭,০০০ থেকে ৭,৫০০ এমএএইচ প্লাস সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার শুরু করেছে।
অনার (Honor): এই প্রযুক্তির অন্যতম পথপ্রদর্শক অনার। টেক পাড়ায় জোর গুঞ্জন, অনার বর্তমানে তাদের প্রোডাকশন লাইনে ১২,০০০ এমএএইচ থেকে শুরু করে রেকর্ড ব্রেকিং ১৪,০০০ এমএএইচ-এর সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি সেলও টেস্ট করা শুরু করেছে, যা খুব শীঘ্রই প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপে দেখা যেতে পারে!
ভিভো ও ওয়ানপ্লাস: ভিভো এবং ওয়ানপ্লাসের মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোও তাদের ফ্ল্যাগশিপ ও মিড-রেঞ্জ কিলার ফোনে (যেমন ওয়ানপ্লাস ১৫ বা আইকিউওও ১৫ সিরিজ) ৭,০০০ থেকে ৯,০০০ এমএএইচ ক্ষমতার ব্যাটারি মাখনের মতো স্লিম ডিজাইনে কাস্টমারদের হাতে তুলে দিচ্ছে।




















