দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিগত জুলাই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থান এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে অন্যতম ভূমিকা পালন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে খ্যাত ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়। ২০২৪ সালের ১ মার্চ গঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় সম্ভাব্য নেতৃত্বে আসতে পারেন এমন নেতাদের তৎপরতাও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দলীয় অঙ্গনজুড়ে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
আলোচনায় আছেন যারা :
দলীয় সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং দীর্ঘদিন রাজপথে ভূমিকা রাখা নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী নেতারা বলেন, অতীতে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও সন্তুষ্ট হবেন।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, ইজ্জাজুল কবির রুয়েল, আমান উল্লাহ আমান, খোরশেদ আলম সোহেল, শাফি আহমেদ , ডা: তৌহিদুর রহমান আওয়াল, মমিনুল ইসলাম জিসান, শরীফ প্রধান শুভ, মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত , গণেশ চন্দ্র রায় সাহস।
আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ- সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থনীতির ছাত্র আফসান এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০২২সালের ২৪ মে ছাত্রলীগের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন- মাথা ফেটে যাওয়ায় ১৭টি সেলাই লাগে এবং পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়।
তিনি ২০২৩ সালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে বিএনপি ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন।
এছাড়াও ২৮ অক্টোবর পরবর্তী বিএনপি ঘোষিত হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিমে তিনি ছাত্রদলের মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে মহানগর উত্তর ছাত্রদল ও পশ্চিম ছাত্রদল অবরোধ কর্মসূচির প্রোগ্রামগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করেন।
এছাড়াও জুলাই গণ- অভ্যুত্থানে তিনি নেতা- কর্মীদের নিয়ে শাহবাগ-বাংলামটর-সাইন্সল্যাব-ধানমন্ডি- মোহাম্মদপুরে আন্দোলন সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যান।
৫ আগস্ট পরবর্তী অবস্থায় তিনি রংপুর , রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন এবং তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
ইজ্জাজুল কবির রুয়েল বর্তমানে সহ-সভাপতি র দায়িত্ব পালন করছেন। সাইন্স ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থী রুয়েল এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহ- সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আন্দোলন সংগ্রামের পরিচিত এক মুখ ইজ্জাজুল কবির রুয়েল।
২৮ অক্টোবর পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রুয়েল।
এছাড়াও জুলাই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানেও রুয়েলের ভুমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
শরীফ প্রধান শুভ বর্তমানে যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় প্রচার সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র শরীফ এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালের ২৪ মার্চ রাতে ছাত্রলীগের গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে হল থেকে পিটিয়ে শরীফের হাত ভেঙে বের করে দেয়।
এছাড়াও ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ থেকে গ্রেফতার হয়ে ৬ মাস জেলে ছিল।
২০২৪ সালের জুলাই – আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে প্রথমদিন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শরীফ প্রধান শুভ।
আমান উল্লাহ আমান বর্তমানে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগীত বিভাগের ছাত্র আমান এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২৮ অক্টোবর এর আন্দোলন সংগ্রামে গ্রেপ্তার হয়ে ২ মাস কারাগারে ছিলেন আমান উল্লাহ আমান। রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হোন।
৫ আগস্ট পরবর্তীতে সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করতে এবং ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে রংপুর , রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।
মমিনুল ইসলাম জিসান বর্তমানে ১নং যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র জিসান এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মাঝে আন্দোলন সংগ্রামের অতি পরিচিত মুখ মমিনুল ইসলাম জিসান। তিনি একাধিক বার কারাবরণ করেছেন। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি অসংখ্য মামলা হামলার শিকার হন।
২০২৩ সালে তিনি ডিবি কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।
জুলাই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ডা: তৌহিদুর রহমান আওয়াল বর্তমানে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র আউয়ার এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
ডা: আউয়াল বিগত আন্দোলন সংগ্রামের খুবই পরিচিত মুখ। তিনি ২৮ অক্টোবর পরবর্তী হরতাল অবরোধে প্রায় প্রতিদিন ই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে ঢাকার রাজপথে মিছিল করেন।
এছাড়াও জুলাই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আউয়াল।
কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত বর্তমানে সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্সের ছাত্র বাসেত এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৩ সালের জুনে নাইটিংগেল মোড় থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন জিয়াউদ্দিন বাসেত।
তিনি জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন।
জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাত্রদলের প্যানেল এর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল এর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনায় ভুমিকা রাখেন।
গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত আন্দোলন সংগ্রামে সাহস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে সব সময় কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পদপ্রত্যাশী নেতারা বলেন, যেহেতু বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ তাই আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের দিয়েই নতুন কমিটি গঠন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তারা আরও বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান এবং তিনি যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, সেটিই সবাই মেনে নেবেন।





















