গণমাধ্যমের সত্য প্রকাশ ও জনসচেতনতামূলক রিপোর্টের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলো রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের বিতর্কিত স্মার্টফোন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘Mobile Buzz BD’ (মোবাইল বাজ বিডি)। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ‘চাইনিজ গ্লোবাল’ নামের ভুয়া ও অননুমোদিত মডিফাইড সংস্করণের ফোন দিয়ে জালিয়াতি করা, দাম নিয়ে প্রতারণা এবং অফিশিয়াল গ্যারান্টি থাকার পরও গ্রাহককে লাঞ্ছিত করার খবর দেশের জনপ্রিয় প্রযুক্তি পোর্টাল ‘টেকজুম ডটটিভি’-তে প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এরই প্রেক্ষিতে টনক নড়ে মোবাইল বাজ বিডি কর্তৃপক্ষের। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নিজেদের ব্র্যান্ড ইমেজ ও আইনি জটিলতা এড়াতে তারা ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ লিখনের সাথে যোগাযোগ করে এবং তার পরিশোধকৃত পুরো টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়।
পেছনে ফিরে দেখা: যে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন লিখন
গত ৩০ জুন, ২০২৬ ইশতিয়াক আহমেদ লিখন সুনির্দিষ্টভাবে ‘রেডমি নোট ১৪ প্রো প্লাস’ (Redmi Note 14 Pro+) মডেলের ইনট্যাক্ট চাইনিজ ভ্যারিয়েন্ট কিনতে মোবাইল বাজ বিডি’র আউটলেটে যান। কিন্তু শপের কর্মীরা তাকে ইনট্যাক্ট চায়না ভার্সন বলে আদতে ‘চাইনিজ গ্লোবাল’ নামের একটি কাস্টমাইজড ফেক ফোন ধরিয়ে দেয়—যা মূলত চাইনিজ ফোনের বুটলোডার আনলক করে জোরপূর্বক থার্ড-পার্টি ইন্ডিয়ান রম (Indian ROM) ফ্ল্যাশ করা একটি রূপান্তর।
পরবর্তীতে বাসায় এসে লিখন দেখতে পান, ফোনের বক্সের মডেল নম্বরের সাথে ভেতরের ওএস (OS) সংস্করণের কোনো মিল নেই। ফার্স্ট ইউজ বা প্রথম ব্যবহার দেখাচ্ছিল ‘এপ্রিল ২০২৬’, যা ফোনটি যে আগেই ব্যবহৃত বা রিফারবিশড ছিল, তা প্রমাণ করে। এই ভুয়া রমের কারণে ফোনে ছবি ও ভিডিওতে চরম ঝাপসা হওয়া (Blurriness), অতিরিক্ত গরম হওয়া (Heating Issue) এবং ভবিষ্যতের সব অফিশিয়াল সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি আপডেট চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়।
গ্যারান্টিতে অস্বীকৃতি ও গ্রাহক হেনস্তা
৭ দিনের অফিশিয়াল রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি পিরিয়ডের মধ্যে (৭ জুলাই) লিখন এই সকল জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণসহ শপে গেলে মোবাইল বাজ বিডি’র কর্মীরা তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। উল্টো দোকানের দায়িত্বরত এক সিনিয়র কর্মী লিখনের সাথে চরম বেয়াদবিপূর্ণ ও আগ্রাসী আচরণ করেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে কূটতর্কের মাধ্যমে বাদ দিয়ে দিন গণনায় জালিয়াতির চেষ্টা করা হয়। গ্রাহক ও তার বন্ধু পরিস্থিতি ভিডিও করতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হতে উদ্যত হয় শপের কর্মীরা এবং চরম অপমান-অপদস্ত করে তাদের দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়।


















