নতুন এয়ার কন্ডিশনার (এসি) কিনেও তীব্র গরমে কাঙ্ক্ষিত শীতলতা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সুলতানা লিজা নামের এক ভুক্তভোগী ক্রেতা। বহুজাতিক ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ‘হায়ার’ (Haier)-এর একটি এসি কিনে এই ভোগান্তির মুখোমুখি হওয়ার পর, কোম্পানিটির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ওই ভুক্তভোগী জানান, গত ৫ জুন ‘গ্রিন এয়ার’ নামের একটি শোরুম থেকে তিনি ‘Haier Clean Cool 1.6 ton’ মডেলের একটি এসি কেনেন। কিন্তু হস্তান্তরের পর থেকেই এসিটির কুলিং বা ঠান্ডা হওয়া নিয়ে নানা কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে।
ভুক্তভোগী ক্রেতার বিবরণ অনুযায়ী, তার রুমের আয়তন মাত্র ১৩২ স্কয়ার ফিট, যেখানে ১.৫ টনের একটি এসি ঘরের চারপাশ দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই এসিটি ২৩ বা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দিয়ে রাখলেও পুরো রুম সঠিকভাবে ঠান্ডা হচ্ছে না। এসের ঠিক সামনের সামান্য জায়গাটুকু ছাড়া ঘরের কোনো কোণায় বা কর্নারে বাতাস পৌঁছাচ্ছে না।
সবচেয়ে বড় বিপত্তি ঘটছে রাতের বেলায়। ভুক্তভোগী জানান, রাতে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ‘কুল মোড’-এ এসি চালিয়ে ঘুমানোর ঠিক ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই পুরো রুম তীব্র গরম হয়ে যায় এবং তাদের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় উঠে দেখা যায় এসি থেকে কোনো ঠান্ডা বাতাস বের হচ্ছে না, বরং সাধারণ ফ্যানের মতো বাতাস বের হচ্ছে। অথচ রুমটি ভবনের চারতলায় অবস্থিত এবং সেখানে সরাসরি কোনো সূর্যের আলোও পড়ে না।
সুলতানা লিজা অভিযোগ করেন, “সারারাত এসি চালানোর পর মাঝরাতে রুম গরম হয়ে যাওয়া অবশ্যই একটি বড় ধরনের সমস্যা এবং এটি স্পষ্টতই একটি ত্রুটিযুক্ত (Faulty Unit) পণ্য।”
এই বিষয়ে হায়ার বাংলাদেশের কাস্টমার কেয়ার ও টেকনিক্যাল টিমকে বহুবার জানানো সত্ত্বেও তারা কেবল এসির গ্যাস চেক করেছে এবং নতুন করে গ্যাস রিফিল (পুনরায় ভর্তি) করে দিয়েছে। তবে মূল যান্ত্রিক ত্রুটির কোনো স্থায়ী সমাধান তারা করতে পারেনি। এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নিয়ে পোস্ট করা হলে কোম্পানির পক্ষ থেকে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে তিনি পোস্টটি মুছে দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি হায়ার কর্তৃপক্ষ।
বিপুল টাকা খরচ করে নতুন পণ্য কিনে এমন গ্রাহক হয়রানির শিকার হওয়াকে অত্যন্ত হতাশাজনক আখ্যা দিয়ে ভুক্তভোগী ক্রেতা হায়ার বাংলাদেশকে বিষয়টি দ্রুত গুরুত্বের সাথে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায় নিজের অধিকার রক্ষায় বাধ্য হয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দ্বারস্থ হবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর ল্যাবে জব্দকৃত এসিগুলো পরীক্ষার পর এই জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন হয়। জানা গেছে, জব্দকৃত এসিগুলোতে কোম্পানির অফিশিয়াল ডিক্লারেশন বা ঘোষণার সঙ্গে মূল প্রোডাক্টের যান্ত্রিক সক্ষমতার বড় ধরনের অমিল রয়েছে।
আইন ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুযায়ী, ২ টনের একটি এসিতে ঘর ঠান্ডা করার জন্য যে নির্দিষ্ট পরিমাণ কুলিং ক্ষমতা বা বিটিইউ (BTU – British Thermal Unit) থাকার কথা, ল্যাব টেস্টে হায়ারের এই এসিগুলোতে তার চেয়ে অনেক কম বিটিইউ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, ২ টনের পুরো মূল্য পরিশোধ করে গ্রাহকরা মূলত অত্যন্ত কম সক্ষমতার এসি কিনছিলেন, যা সরাসরি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন এবং প্রতারণার শামিল।




















