দীর্ঘস্থায়িত্ব, শক্তিশালী হার্ডওয়্যার কিংবা অত্যাধুনিক ক্যামেরা—কোনোদিক থেকেই অ্যাপলের চেয়ে পিছিয়ে নেই দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। তবে বাজারে আসার পর হাই-এন্ড বা ফ্ল্যাগশিপ মডেলগুলোর দর ধরে রাখার দৌড়ে এখনও আইফোনের চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে কোম্পানিটি।
ভিয়েতনামী সংবাদমাধ্যম ‘বাও থান নিয়েন’-এর এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসিফিকেশন ও ব্র্যান্ড মূল্যের বাইরেও পুনর্বিক্রয় মূল্য বা রিফার্বিশড মার্কেটের চাহিদার কারণে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস সিরিজের ফোনগুলোর দাম আইফোনের চেয়ে অনেক দ্রুত হ্রাস পায়।
ব্যবহৃত স্মার্টফোনের বাজার পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সোয়াপ্পা’ (Swappa)-র তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী—বাজারে আসার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ (Galaxy S26) সিরিজের ফোনগুলোর গড় বিক্রয়মূল্য ৩০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। অথচ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বাজারে আসা আইফোন ১৭ সিরিজের মডেলগুলোর পুনঃবিক্রয় মূল্য গড়ে ১৫ শতাংশের চেয়েও কম কমেছে।
নির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, সেকেন্ড-হ্যান্ড মার্কেটে আইফোন ১৭-এর পুনঃবিক্রয় মূল্য এখনও মূল দামের ৮৭.৪৭ শতাংশে ধরে রাখতে পেরেছে, যেখানে গ্যালাক্সি এস২৬-এর ক্ষেত্রে তা মাত্র ৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
অন্য একটি বাজার গবেষণা সংস্থা ‘সেলসেল’ (SellCell)-এর প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্যালাক্সি এস মডেলগুলোর অবমূল্যায়ন (Depreciation) আইফোনের তুলনায় অনেক দ্রুত ঘটে।
গবেষকদের মতে, একজন ব্যবহারকারী একটি ফোন কত খরচে ব্যবহার করছেন তা নির্ভর করে এর মূল ক্রয়মূল্য এবং কয়েক বছর পর পুনঃবিক্রয় মূল্যের পার্থক্যের ওপর।
উদাহরণস্বরূপ, যারা এক বা দুই বছর পর পর নিয়মিত নতুন স্মার্টফোনে আপগ্রেড করেন, তারা আইফোন ব্যবহারে বেশি সুবিধা পান। কারণ প্রাথমিক ক্রয়মূল্য একই হলেও এক বা দুই বছর পুরোনো আইফোন বিক্রি করে বেশ ভালো অঙ্কের টাকা ফেরত পাওয়া যায়, যা নতুন ফোন কেনার খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
আইফোনের রিসেল ভ্যালু বা পুনঃবিক্রয় মূল্য বেশি হওয়ার বড় একটি কারণ অ্যাপলের দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার সাপোর্ট। অ্যাপল সাধারণত ৫ থেকে ৬ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে নিয়মিত আইওএস (iOS) আপডেট দিয়ে থাকে। ২০১৯ সালে বাজারে আসা ‘আইফোন ১১’ সিরিজ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আসতে যাওয়া ‘আইওএস ২৭’ (iOS 27) পর্যন্ত আপডেট সুবিধা পাচ্ছে।
অন্যদিকে, স্যামসাং তাদের সাম্প্রতিক গ্যালাক্সি এস সিরিজের ফ্ল্যাগশিপগুলোর জন্য ৭ বছরের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম আপডেটের প্রতিশ্রুতি দিলেও, ব্যবহৃত পণ্যের বাজারে এখনও তা আইফোনের মতো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, স্যামসাং ও অ্যাপলের মধ্যকার এই প্রতিযোগিতা কেবল প্রযুক্তির শক্তি প্রদর্শনে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পণ্যের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক লাভের সাথে গভীরভাবে জড়িত।




















