প্রতিবছরের মতো এবারও সেপ্টেম্বরে নতুন আইফোন সিরিজ উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অ্যাপল। প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে প্রতিষ্ঠানটির বহুল প্রতীক্ষিত আইফোন ১৮ সিরিজের উদ্বোধনী আয়োজন।
টিপস্টারদের দাবি, চলতি সপ্তাহেই নতুন আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক তারিখ জানাতে পারে অ্যাপল। সাম্প্রতিক বছরগুলোর ঘোষণার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এবারের সেপ্টেম্বারের আয়োজনে আইফোন ১৮ সিরিজের সব মডেল নাও দেখা যেতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আইফোন ১৮-এর স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণ, আইফোন ১৮ই এবং আইফোন এয়ার ২ পরবর্তী বছর উন্মোচন করা হতে পারে।
সেপ্টেম্বরে আসতে পারে সাত ডিভাইস
প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে মোট সাতটি নতুন ডিভাইস উন্মোচন করতে পারে অ্যাপল। এর মধ্যে থাকতে পারে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স।
সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ডিভাইস নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও এবারই প্রথম বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছোট হতে পারে ডায়নামিক আইল্যান্ড
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে ডিসপ্লে ও ক্যামেরা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল। এর মধ্যে অন্যতম হতে পারে ফেস আইডি প্রযুক্তির নকশায় পরিবর্তন।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, ফেস আইডির কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান ডিসপ্লের নিচে বসানোর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে অ্যাপল। এমনটি হলে ডিসপ্লের ওপরের অংশে থাকা ডায়নামিক আইল্যান্ডের আকার আরও ছোট করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতের আইফোনে ডায়নামিক আইল্যান্ড পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার পথও এতে তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ২০ প্রো চিপে বাড়বে পারফরম্যান্স
আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্স—দুই মডেলেই অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ ব্যবহারের গুঞ্জন রয়েছে। নতুন প্রজন্মের চিপটি আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্স ও উন্নত বিদ্যুৎ দক্ষতা দিতে পারে।
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে তুলনামূলক বড় ব্যাটারি ব্যবহারের কথাও শোনা যাচ্ছে। এ কারণে ফোনটির পুরুত্ব সামান্য বাড়তে পারে।
ফোল্ডেবল আইফোনে নাও থাকতে পারে ফেস আইডি
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। গুঞ্জন অনুযায়ী, ডিভাইসটিতে ভাঁজ করার পরও ব্যবহারের উপযোগী একটি বাইরের ডিসপ্লে এবং ভেতরে বড় আকারের মূল ডিসপ্লে থাকবে।
ভাঁজ করা অবস্থায় ফোনটি প্রচলিত স্মার্টফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে। আর পুরোপুরি খুললে বড় পর্দায় মাল্টিটাস্কিং ও অন্যান্য কাজের সুবিধা পাওয়া যাবে।
তবে পাতলা নকশা ও অভ্যন্তরীণ জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে এতে ফেস আইডি নাও থাকতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর পরিবর্তে অন্য কোনো বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফোল্ডেবল আইফোনটির দাম ২ হাজার ডলারের বেশি হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি, যদিও কর ও আমদানি খরচ যুক্ত হলে স্থানীয় বাজারে দাম আরও বেশি হতে পারে।
নতুন অ্যাপল ওয়াচও আসতে পারে
আইফোনের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের আয়োজনে নতুন প্রজন্মের অ্যাপল ওয়াচ উন্মোচন করতে পারে অ্যাপল। তালিকায় থাকতে পারে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ এবং অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৪।
তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি অ্যাপল। ফলে চূড়ান্ত মডেল, ফিচার ও মূল্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।





















