দুর্বল মার্কিন ডলার ও বাজারে মুদ্রার অবমূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া শঙ্কায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বিটকয়েনের দাম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সিটির দাম গতকাল ৮০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে।
একপর্যায়ে দাম ৮১ হাজার ২৩৭ ডলার ৯৪ সেন্টে উঠে যায়। এটি গত মে মাসের মাঝামাঝির পর বিটকয়েনের সর্বোচ্চ দাম। খবর রয়টার্স।
চলতি আগস্টে এখন পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সিটির দাম বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর মাসভিত্তিক সবচেয়ে বড় দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে বিটকয়েন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাজার পরিস্থিতিও ক্রিপ্টোকারেন্সির দামে প্রভাব ফেলছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের জন্য আরো স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণের একটি বিল পাস করার আহ্বান জানান। এর পর থেকে বিটকয়েনের দাম বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি বন্ড পুনরায় কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদহারের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সেই সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্বর্ণের মতো বিকল্প সম্পদের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।
সর্বশেষ জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে বিশ্ববাজারে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিটকয়েনের দরপতন হয়। ওই সময় ক্রিপ্টোকারেন্সির শীর্ষ টোকেনটির দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ৬২ হাজার ৮০০ ডলারে নামে। গত বছরের শেষ দিকে বিটকয়েনের দাম রেকর্ড ১ লাখ ২৬ হাজার ডলারে উঠেছিল, ক্রমাগত বিক্রির চাপে তা নেমে আসে ৬০ হাজার ডলারের ঘরে। তবে আগস্টেই চাঙ্গা হতে শুরু করে ক্রিপ্টো বাজার।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ক্রিপ্টোকারেন্সির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।
বাজার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, বিটকয়েনের দাম ৮০ হাজার ডলারের ওপর স্থায়ীভাবে উঠতে পারলে সামনে আরো বড় উত্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর মতে, এ অবস্থান ধরে রাখতে পারলে বিটকয়েনের দাম ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের দিকে এগোতে পারে।





















