রাজধানীর পান্থপথের ঐতিহ্যবাহী বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে অবস্থিত আইটি ও মোবাইল শপ ‘অ্যাপল এম্পায়ার’ (Apple Empire)-এর মালিক শহিদুল মোরসালিন আকাশ এবং তাঁর ভাই ওসমান গনি রুবেলের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপন করার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সাপ্লায়ার, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ ক্রেতা এমনকি একাধিক ব্যাংকের পাওনা মিলিয়ে আত্মসাতের পরিমাণ আনুমানিক তিন কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শোরুমটি সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে নিজেদের সমস্ত মোবাইল নম্বর, ফেসবুক পেজ/আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ ডিঅ্যাক্টিভেট করে সপরিবারে উধাও হয়ে গেছেন এই দুই ভাই।
ইনভেস্টিগেটিভ তথ্যে দেখা যায়, শুধু পাইকারি সাপ্লায়ার বা খুচরা ব্যবসায়ীদের ধারে পণ্য দেওয়াই নয়, ব্যাংকিং খাতকেও প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন এই চক্রটি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী ডক্টর আরিফুজ্জামান খান টেকজুম ডটটিভিকে বলেন, “আমার পরিচিত তিনজনের পাশাপাশি আরও বহু মানুষ এই প্রতারণার শিকার। এমনকি বিভিন্ন ব্যাংক থেকেও তাঁদের কাছে ফোন এসেছে। ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও লোন বাবদ বিশাল অঙ্কের টাকা বাকি রেখে উধাও হয়েছেন তাঁরা, ব্যাংকও তাঁদের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না। আমি নিজে একটি মোবাইল কেনার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”
অননুমোদিত বা গ্রে-মার্কেটের ডিভাইস এনে বিক্রির পাশাপাশি কাস্টমারদের ওয়ারেন্টির নামে মাস পর মাস ঝুলিয়ে রাখাই ছিল এই চক্রটির মূল কৌশল। নতুন অ্যাপল ডিভাইস জমা নিয়ে তা আর ফেরত না দিয়ে গায়েব করে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন বহু ক্রেতা।
আরেক ভুক্তভোগী আশিক তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, “গত ১২ এপ্রিলে অ্যাপেল এম্পায়ার থেকে আমি একটি Mac Mini M4 কিনি। ক্রয়ের ১৫ দিন পর ২৮ এপ্রিল ডিভাইসটি স্লিপ মোড থেকে আর চালু হচ্ছিল না। বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে আমি শপে ওয়ারেন্টির জন্য সেটি জমা দিই। তাঁরা জানায় ডিভাইসটি দুবাই অ্যাপেল জেনুইন সেন্টারে পাঠানো হবে এবং সর্বোচ্চ ৪৫ দিন সময় লাগবে। কিন্তু ৪৫ দিন পর খোঁজ নিয়ে জানি সেটি তখনও পাঠানোই হয়নি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পরবর্তীতে এই ভোগান্তির কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলে অ্যাপল এম্পায়ার কর্তৃপক্ষ আমাকে পোস্ট মুছে ফেলার অনুরোধ করে এবং জানায় ডিভাইসটি অ্যাপল সেন্টারে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে পোস্ট সরিয়ে নিলেও ৩ মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে, অথচ আজ ৫ আগস্ট পর্যন্ত ডিভাইসের কোনো আপডেট বা রিপ্লেসমেন্ট পাইনি। উল্টো তারা মেসেজের উত্তর দেওয়া ও যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।”
সাধারণ ক্রেতা এবং পাওনাদারদের যৌথ উদ্দ্যোগে দোকান মালিক সমিতি, বসুন্ধরা সিটি সিকিউরিটি এবং সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ ও ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অননুমোদিত উপায়ে দোকান চালিয়ে সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রতারিত করা এই দুই ভাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়া এবং শোরুম বন্ধের বিষয়ে বক্তব্য নিতে বসুন্ধরা সিটির ‘অ্যাপল এম্পায়ার’ (Apple Empire)-এর অফিশিয়াল হটলাইন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ পাওয়া গেছে।



















