জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মেট্রো-১) মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, চীনে তৈরি পণ্যের গুণগত মান নিয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে, তার পেছনে শুধু চীনা উৎপাদনকারীদের দায়ী করার সুযোগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকারকের চাহিদা, নির্ধারিত বাজেট এবং মানের শর্তের ওপর পণ্যের গুণগত মান নির্ভর করে।
তিনি বলেন, “চীনকে বিশ্বের কারখানা বলা হয়। তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তি এতটাই বিস্তৃত যে, তারা বিভিন্ন বাজেট ও মানের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে পারে।”
আব্দুল জব্বার মন্ডলের ভাষ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের মতো বাজারে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্দিষ্ট পণ্যের মানদণ্ড অনুসরণ করতে হয়। ফলে এসব দেশের আমদানিকারকরা তুলনামূলকভাবে উন্নতমানের পণ্য তৈরির জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে একশ্রেণির ব্যবসায়ী কম দামে পণ্য এনে বেশি মুনাফা করার চেষ্টা করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, “অনেক সময় আমদানিকারকরা উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য প্রস্তুতকারকদের কাছে কম বাজেটে পণ্য তৈরির নির্দেশ দেন। এতে টেকসই উপকরণের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা কাঁচামাল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়।”
তিনি বলেন, কম দামে পণ্য বিক্রির প্রতিযোগিতার কারণে দেশের বাজারে নিম্নমানের পণ্যের প্রবেশ বাড়ছে। এতে স্বল্পমেয়াদে ভোক্তারা কম দামে পণ্য কিনে লাভবান হলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
“একটি পণ্য কম দামে কিনে কয়েক মাস পর নষ্ট হয়ে গেলে ভোক্তাকে আবার একই পণ্য কিনতে হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত বারবার কেনার কারণে তার ব্যয়ই বেড়ে যায়,” বলেন তিনি।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমদানি পর্যায়েই পণ্যের মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা। এজন্য কাস্টমস ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI)-এর কার্যকর তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
পাশাপাশি পণ্য কেনার সময় শুধু কম দামকে গুরুত্ব না দিয়ে পণ্যের স্থায়িত্ব, মান, ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা এবং বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার জন্য ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, স্বল্পমেয়াদি মুনাফার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সুনাম ও গ্রাহকের সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এতে একদিকে ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে বাজারেও ভালো মানের পণ্যের প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।




















