ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে সরকার যখন ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তখন টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এই পদ্ধতি ব্যবহারে বিকাশের পক্ষ থেকে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের দাবি, বাংলা কিউআর ব্যবহার করেন—এমন এজেন্টদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক না রাখার বিষয়ে বিকাশের একটি ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের প্রতিনিধিরা মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
একই সময়ে, আন্তঃলেনদেনযোগ্য ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করতে গিয়ে বিকাশসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকদের লেনদেন ব্যর্থ হওয়া, বিলম্ব এবং টাকা আটকে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।
গোপালপুরের কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারকারী এজেন্টদের সঙ্গে লেনদেন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে না যাওয়ার বিষয়ে বিকাশের স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, বাংলা কিউআর যেখানে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্তঃলেনদেন সহজ করার জন্য চালু করা হয়েছে, সেখানে কোনো একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হলে পুরো ব্যবস্থাটির উদ্দেশ্যই বাধাগ্রস্ত হয়।
বাংলা কিউআরে লেনদেন ব্যর্থতার অভিযোগ
‘এক কিউআর কোডে সব ধরনের পেমেন্ট’ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর চালু করে। এর মাধ্যমে বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো এমএফএস কিংবা বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট মার্চেন্টের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধের সুযোগ থাকার কথা।
কিন্তু ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, বাস্তবে কখনও লেনদেন সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগছে, আবার কখনও ‘Transaction Failed’ বা সার্ভার-সংক্রান্ত ত্রুটির বার্তা আসছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টাকা কেটে নেওয়ার পরও মার্চেন্টের হিসাবে তাৎক্ষণিকভাবে জমা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অভিযোগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের করণীয় জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সমস্যায় প্রথমে ব্যাংক বা বিকাশে অভিযোগ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলা কিউআর লেনদেনে কোনো সমস্যা হলে গ্রাহককে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারীর কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযোগ জানানোর পর একটি কমপ্লেইন টিকিট বা রেফারেন্স নম্বর সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে ওই রেফারেন্স নম্বর উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাস্টমার সেফটি উইংয়ে অভিযোগ করা যাবে।
এ জন্য ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।
ক্যাশলেস লেনদেনের পথে সমন্বয়ের প্রশ্ন
বাংলা কিউআরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএসের আলাদা কিউআর ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি আন্তঃসংযুক্ত পেমেন্ট অবকাঠামো তৈরি করা। ফলে একজন গ্রাহক কোন প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তা যেন মার্চেন্টের পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা না হয়—এমন ব্যবস্থাই এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার কথা।
এ অবস্থায় একদিকে বাংলা কিউআর ব্যবহারে স্থানীয় পর্যায়ে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগ এবং অন্যদিকে লেনদেনের কারিগরি জটিলতা—দুই বিষয়ই ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে হলে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং মার্চেন্ট পর্যায়ে অভিন্ন নীতিমালা নিশ্চিত করা জরুরি।




















