দেশের প্রায় পাঁচ কোটি নতুন ব্যবহারকারীকে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনতে আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয়ভাবে কম দামের স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, কৃষক, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে কার্যকর দাম দুই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখনও প্রায় সাত কোটি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের হাতে রয়েছে ফিচার বা বাটন ফোন। এই জনগোষ্ঠীকে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতায় আনাই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য।
উৎপাদন ব্যয় ৫৫ ডলার
প্রস্তাবিত কম দামের একটি স্মার্টফোন তৈরিতে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৫৫ ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এর মধ্যে এলসিডি স্ক্রিনে প্রায় ১৭ ডলার, মাদারবোর্ড ও প্রসেসরে ২৩ ডলার এবং ব্যাটারি ও কেসিংয়ে ১৫ থেকে ১৬ ডলার খরচ ধরা হয়েছে।
তবে উৎপাদন ব্যয় এর চেয়ে বেশি হলেও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি ফোনে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানি ও কর-সুবিধা দেওয়ার ফলে ফোনটির প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য প্রায় পাঁচ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
ফোনের সঙ্গে বিনা মূল্যে ডাটা-ভয়েস
স্মার্টফোনের কার্যকর মূল্য আরও কমিয়ে আনতে মোবাইল অপারেটরদেরও এই উদ্যোগে যুক্ত করা হয়েছে।
তিনটি প্রধান মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিটি ফোনের সঙ্গে প্রথম তিন মাস বিনা মূল্যে ডাটা ও ভয়েস প্যাকেজ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তুতকারকদের ভর্তুকি ও অপারেটরদের দেওয়া এই প্যাকেজ মিলিয়ে একজন গ্রাহকের জন্য ফোনটির কার্যকর ব্যয় দুই থেকে তিন হাজার টাকায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকের কিস্তি বা ইএমআই সুবিধার ওপর থাকা আগের বিধিনিষেধও তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংকগুলো এখন গ্রাহকদের কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ দিতে পারবে।
দরিদ্রদের জন্য এসওএফ
শুধু সাধারণ গ্রাহক নয়, চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও স্মার্টফোনের আওতায় আনতে সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ড বা এসওএফ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
উপদেষ্টার তথ্য অনুযায়ী, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা আনুমানিক দুই কোটি মানুষকে চিহ্নিত করে তাদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে এই তহবিল ব্যবহার করা হতে পারে। বর্তমানে এসওএফে প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা রয়েছে।
অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতে দেশীয় উৎপাদকদের প্রতিনিধিরা চার সপ্তাহের বেশি সময় চীনে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট সহায়তা ও ঋণ সুবিধাও অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রথম দফার কিছু স্মার্টফোন শিগগিরই বাজারে আসতে পারে। তবে ডিলারদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিতরণ অক্টোবরের মাঝামাঝি শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে দেশে শতভাগ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট কভারেজ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন দাম ও ফিচারের স্মার্টফোনও উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।




















