চীনে আত্মপ্রকাশের প্রায় তিন মাস পর এবার আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য Vivo X Fold6 ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বৈশ্বিক সংস্করণ ঘোষণা করেছে ভিভো। বড় ফোল্ডেবল ডিসপ্লে, মিডিয়াটেকের শক্তিশালী চিপসেট, ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং উন্নত এআই সুবিধাকে কেন্দ্র করে নতুন ফোনটি সাজানো হয়েছে।
ভিভো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে উন্মোচনের পর দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের বাজারেও Vivo X Fold6 আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব বাজারে ফোনটির নির্দিষ্ট মূল্য ও বিক্রির তারিখ এখনো জানানো হয়নি।
৮.০২ ইঞ্চির ফোল্ডেবল ডিসপ্লে
Vivo X Fold6-এ রয়েছে ৮.০২ ইঞ্চির ফোল্ডেবল LTPO AMOLED ডিসপ্লে। এর রেজোলিউশন ২৩১২×২৫০৪ পিক্সেল। বাইরে রয়েছে ৬.৫১ ইঞ্চির কাভার ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ১১২০×২৫২৮ পিক্সেল।
দুটি ডিসপ্লেতেই ১২০Hz রিফ্রেশ রেট রয়েছে। সর্বোচ্চ ৫,০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের সুবিধাও দেওয়া হয়েছে বলে ভিভোর তথ্য।
Dimensity 9500 Super ও ১ টেরাবাইট স্টোরেজ
ফোনটির প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Dimensity 9500 Super চিপসেট। মেমোরি কনফিগারেশনে থাকছে ১২GB ও ১৬GB RAM। স্টোরেজের ক্ষেত্রে ২৫৬GB থেকে সর্বোচ্চ ১TB পর্যন্ত সংস্করণ পাওয়া যাবে।
ফলে বড় ডিসপ্লেতে মাল্টিটাস্কিং, গেমিং ও পেশাদার কাজের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য ফাইল সংরক্ষণে বেশি সুবিধা পাওয়ার কথা।
২০০ মেগাপিক্সেলের ট্রিপল ক্যামেরা
ফটোগ্রাফির জন্য Vivo X Fold6-এর পেছনে রয়েছে ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ। এর প্রধান ক্যামেরায় রয়েছে OIS সুবিধাসহ ২০০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর।
এর সঙ্গে থাকছে ৩x অপটিক্যাল জুম সমর্থিত ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফোটো ক্যামেরা এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা।
ভেতরের ফোল্ডিং ডিসপ্লে ও বাইরের কাভার ডিসপ্লেতে আলাদা ২০ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরাও রয়েছে।
ধূলা ও পানিরোধী সুরক্ষার জন্য ফোনটিতে IP58 ও IP59 রেটিং দেওয়া হয়েছে।
OriginOS 7 Fold-এ মাল্টিটাস্কিং
আন্তর্জাতিক সংস্করণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো Android 17-ভিত্তিক OriginOS 7 Fold। ফোল্ডেবল ডিসপ্লের বড় জায়গা কাজে লাগাতে এতে একাধিক মাল্টিটাস্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে।
Origin Workbench-এর মাধ্যমে একটি মূল উইন্ডোর পাশাপাশি চারটি সহায়ক উইন্ডো ব্যবহার করা যাবে। আবার Multi-Split Screen সুবিধায় একই সময়ে একাধিক অ্যাপ পাশাপাশি বা ভাসমান উইন্ডো হিসেবে চালানো যাবে।
এ ছাড়া AI Cross-App Drag ফিচারের মাধ্যমে এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে তথ্য ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে স্থানান্তরের সুবিধা রয়েছে।
AI Meeting Assistant ও Jovi AI Agent
পেশাদার ব্যবহারকারীদের জন্য ফোনটিতে বেশ কিছু এআই ফিচার যুক্ত করেছে ভিভো।
AI Recorder মিটিংয়ের অডিও রেকর্ড ও নোট তৈরিতে সহায়তা করবে। ভিডিও কলের সময় AI Captions রিয়েল-টাইম সাবটাইটেল ও অনুবাদের সুবিধা দেবে।
এ ছাড়া AI Reader Mode বড় PDF ফাইলকে তুলনামূলক সহজ পাঠযোগ্য eBook লেআউটে সাজিয়ে দেখাতে পারে।
Jovi AI Agent ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ সম্পাদনে সহায়তা করবে। অন্যদিকে vivo Office Kit ব্যবহার করে বড় মনিটর বা টিভির সঙ্গে ফোন সংযুক্ত করে ডেস্কটপধর্মী কাজের পরিবেশ তৈরির সুবিধা রয়েছে।
৬,৯০০mAh ব্যাটারি
ফোল্ডেবল ফোনের জন্য বড় ব্যাটারি সক্ষমতাও Vivo X Fold6-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এতে রয়েছে ৬,৯০০mAh ব্যাটারি।
চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে ফোনটি ৮০W তারযুক্ত এবং ৪০W ওয়্যারলেস ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে।
দক্ষিণ এশিয়ায় কবে আসছে?
Vivo X Fold6-এর বৈশ্বিক সংস্করণ ঘোষণার পর দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের বাজারে ফোনটি আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিভো। তবে বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট বাজারে এর বিক্রির তারিখ, কনফিগারেশন ও দাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ফোনটির আন্তর্জাতিক মূল্য ও প্রি-অর্ডারের তথ্য সংশ্লিষ্ট বাজার অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।





















