কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবায় বিপ্লব ঘটানোর পর এবার সরাসরি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম বাজার থেকে গ্রেইন ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে দেশব্যাপী ৮০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের ১৪ মেগাহার্জ পর্যন্ত পেয়ারড স্পেকট্রাম বা বর্ণালী সফলভাবে অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইলন মাস্কের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিখুঁত ও সার্বিক মোবাইল ফোন কভারেজ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই স্পেকট্রাম অধিগ্রহণ ছিল সর্বশেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ।
এর ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ঘরের ভেতরে এবং বাইরে সবখানেই স্টারলিংকের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সুফল ভোগ করতে পারবেন।
প্রযুক্তির মেলবন্ধন ও কাঠামোগত রূপরেখা
নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, খোলা আকাশের নিচে বা ঘরের বাইরে মোবাইল ফোন কভারেজ নিশ্চিত করতে স্টারলিংক তাদের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে। আর ঘরের ভেতরে নেটওয়ার্ক সচল রাখতে ব্যবহার করা হবে সদ্য সংগৃহীত ৮০০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম, যা বর্তমানে বাজারের প্রায় সব স্মার্টফোনেই সমর্থন করে।
এ ছাড়া উচ্চগতির ইন্টারনেট ও বেশি ধারণক্ষমতার কভারেজের জন্য স্টারলিংক মোবাইল তাদের পূর্বের বৈশ্বিক ২ গিগাহার্জ মিড-ব্যান্ড স্পেকট্রামও কাজে লাগাবে।
স্যাটেলাইটের সঙ্গে গ্রাউন্ড-ভিত্তিক বা ভূ-পৃষ্ঠের ফেমটোকোষের সমন্বয় ঘটিয়ে ফাইভজি মোবাইল সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পরই স্পেসএক্স স্যাটেলাইট ও আধুনিক টেরিস্ট্রিয়াল বা ভূ-অবকাঠামোর এক চমৎকার মিশ্রণ বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে আসবে।
টেলিকম বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
স্পেসএক্সের এই নতুন মোবাইল সেবা চালুর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী টেলিকম জায়ান্ট যেমন- এটিঅ্যান্ডটি, ভেরিজোন এবং টি-মোবাইলের সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে স্টারলিংক।
বিশেষ করে গ্রামীণ ও যেসব জনপদে এখনো ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্কের ভালো সুবিধা পৌঁছায়নি, সেখানে প্রচলিত অপারেটরদের তুলনায় অনেক উন্নত কভারেজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তারা।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বা এফসিসি থেকে ১৫ হাজার পরবর্তী প্রজন্মের স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের অনুমোদন পেয়েছে স্পেসএক্স।
টি-মোবাইল থেকে গ্রেইন ম্যানেজমেন্ট হয়ে আসা এই স্পেকট্রাম চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।



















