বাংলাদেশের তরুণ, শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তিকে জার্মান ভাষা, সংস্কৃতি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কেয়ারগিভিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (বিসিটিটিআই) এবং জার্মানি ও বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী জার্মান শিখির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিসিটিটিআইয়ের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন রোটারিয়ান মো. মাসেকুর রহমান খান, পিএইচএফ, ইউনিক গ্রুপের স্বাস্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিসিটিটিআইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। জার্মান শিখির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস নুসরাত জাহান।
রোটারিয়ান মো. মাসেকুর রহমান খান, পিএইচএফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সৈয়দ সানোয়ারুল হক, সিএফই, ইউনিক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপদেষ্টা।এ ছাড়া ইউনিক গ্রুপ ও বিসিটিটিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি তরুণ, শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জার্মান ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক পরিচিতি, কর্মজীবনের প্রস্তুতি এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক দিকনির্দেশনাকে আরও সুসংগঠিত করা। বিশেষ করে জার্মানির আউসবিল্ডুং বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের ভাষাগত, পেশাগত ও সাংস্কৃতিক প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করা হবে।
প্রধান অতিথি জনাব সৈয়দ সানোয়ারুল হক উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ। তাঁদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা, কারিগরি দক্ষতা, পেশাগত আচরণ, যোগাযোগ সক্ষমতা ও সাংস্কৃতিক প্রস্তুতির মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। এই যৌথ উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে যোগ্য বাংলাদেশি তরুণ ও দক্ষ কর্মীদের জার্মানির শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির ভাষণে রোটারিয়ান মো. মাসেকুর রহমান খান, পিএইচএফ বলেন, “বাংলাদেশের অন্যতম বড় সম্পদ আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা, সাংস্কৃতিক জ্ঞান, কর্মনৈতিকতা ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে যথাযথ প্রস্তুতি প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়; তরুণ ও দক্ষ জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও কর্মোপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।”
জার্মান শিখির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস নুসরাত জাহান বলেন, জার্মানিতে সফলভাবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা পেশাগত জীবন গড়ে তুলতে ভাষা শেখার পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতি, যোগাযোগের ধরন, কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা, শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে প্রস্তুতি থাকা জরুরি। জার্মান শিখি তার জার্মানিভিত্তিক অভিজ্ঞতা, ভাষা প্রশিক্ষণে বিশেষ দক্ষতা এবং সাংস্কৃতিক পরিচিতিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিসিটিটিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশি প্রার্থীদের মানসম্পন্ন ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তুতি প্রদানে কাজ করবে।
উভয় প্রতিষ্ঠান এই সমঝোতাকে বাংলাদেশের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তির জন্য জার্মানিতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের প্রস্তুতির নতুন দ্বার উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ভাষা, কারিগরি দক্ষতা, সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি এবং যথাযথ দিকনির্দেশনার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলাই এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।




















