কমপ্যাক্ট আকারের স্মার্টফোনে বড় ব্যাটারি, উন্নত ডিসপ্লে ও শক্তিশালী ক্যামেরার সমন্বয় নিয়ে আলোচনায় এসেছে শাওমির সাব-ব্র্যান্ড পোকোর সম্ভাব্য নতুন হ্যান্ডসেট পোকো এক্স৮এস (Poco X8s)। অনলাইনে প্রচারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ফোনটিতে থাকতে পারে ৬.৩৫ ইঞ্চির এলটিপিও অ্যামোলেড ডিসপ্লে, স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ প্রসেসর এবং ৬,৩৩০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের (এমএএইচ) সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি।
ফাঁস হওয়া তথ্যে আরও দাবি করা হয়েছে, ফোনটিতে ১০০ ওয়াটের তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং, ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স থাকতে পারে। তবে পোকোর পক্ষ থেকে মডেলটির নাম, স্পেসিফিকেশন, দাম ও বাজারজাতকরণের সময় নিশ্চিত করা না হলে এসব তথ্যকে সম্ভাব্য হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
১.৫কে রেজোলিউশনের এলটিপিও ডিসপ্লে
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, পোকো এক্স৮এস-এ থাকতে পারে ৬.৩৫ ইঞ্চির ১.৫কে রেজোলিউশনের এলটিপিও অ্যামোলেড ডিসপ্লে। এর রেজোলিউশন ১২২০×২৬৫৬ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত পরিবর্তনশীল হতে পারে।
অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট ব্যবহারের ফলে স্ক্রিনে প্রদর্শিত কনটেন্ট অনুযায়ী রিফ্রেশ রেট সমন্বয় করা সম্ভব। এতে স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশন মসৃণ রাখার পাশাপাশি কিছু পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ খরচ কমানো যেতে পারে।
ফাঁস হওয়া তথ্যে ডিসপ্লের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৩ হাজার ৫০০ নিটস এবং চারপাশের বেজেল ১.১৮ মিলিমিটার হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। স্ক্রিন সুরক্ষায় পোকো শিল্ড গ্লাস ব্যবহারের দাবি রয়েছে। তবে উজ্জ্বলতার পরিমাপটি পিক ব্রাইটনেস, এইচডিআর ব্রাইটনেস নাকি নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষার ফল—তা যাচাই করা প্রয়োজন।
৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা
ক্যামেরা বিভাগে ফোনটির পেছনে তিনটি ক্যামেরা থাকার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের লাইট ফিউশন ৮০০ (Light Fusion 800) সেন্সর হতে পারে। সেন্সরটির আকার ১/১.৫৫ ইঞ্চি এবং এতে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) সুবিধা থাকার দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৫০ মেগাপিক্সেলের ২.৫ গুণ অপটিক্যাল জুমের টেলিফটো বা পেরিস্কোপ ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা থাকতে পারে। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে ২০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকার কথাও বলা হয়েছে।
এ ধরনের ক্যামেরা সমন্বয় বাস্তবে যুক্ত হলে দূরের বিষয়বস্তুর ছবি তোলা ও বিভিন্ন দৃশ্য ধারণে বাড়তি সুবিধা মিলতে পারে। তবে ক্যামেরার চূড়ান্ত কনফিগারেশন এবং ছবির মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আনুষ্ঠানিক স্পেসিফিকেশন ও ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রয়োজন।
স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ ও বড় ব্যাটারি
ফোনটির প্রসেসর হিসেবে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ চিপসেটের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। চার ন্যানোমিটার প্রক্রিয়ায় তৈরি এই চিপসেটের সঙ্গে তাপ নিয়ন্ত্রণে ৪ হাজার ৪৯৭ বর্গমিলিমিটারের থ্রিডি আইসলুপ কুলিং প্রযুক্তি থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যাটারির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে ৬,৩৩০ এমএএইচের সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি। ফাঁস হওয়া তথ্যে এতে ১৬ শতাংশ সিলিকন কনটেন্ট থাকার কথা বলা হয়েছে। চার্জিংয়ের জন্য থাকতে পারে ১০০ ওয়াটের তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং এবং ২২.৫ ওয়াটের রিভার্স চার্জিং সুবিধা।
কমপ্যাক্ট আকারের ফোনে বড় ব্যাটারি থাকলে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রকৃত ব্যাটারি ব্যাকআপ নির্ভর করবে ডিসপ্লে, প্রসেসর, নেটওয়ার্ক সংযোগ ও ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ধরনের ওপর।
অ্যান্ড্রয়েড ১৬, আইপি৬৮ ও অন্যান্য সুবিধা
ফাঁস হওয়া স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, পোকো এক্স৮এস অ্যান্ড্রয়েড ১৬-ভিত্তিক শাওমি হাইপারওএস ৩ (Xiaomi HyperOS 3) দিয়ে বাজারে আসতে পারে। নিরাপত্তার জন্য এতে আলট্রাসনিক ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং ধুলো ও পানি প্রতিরোধে আইপি৬৮ রেটিং থাকার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ওয়াই-ফাই ৬ই, এনএফসি ও ফাইভজি সংযোগ সুবিধা থাকতে পারে। সম্ভাব্য রঙ হিসেবে ব্লু, ব্ল্যাক ও হোয়াইটের নাম সামনে এসেছে।
সম্ভাব্য দাম ও বাজারে আসার সময়
প্রচারিত তথ্যে ৮ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৩৯৯ ডলার এবং ১২ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৪৯৯ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে ফোনটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ পাওয়া যেতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাম ও সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশে ফোনটি আসবে কি না, এলেও দাম কত হবে—সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পোকোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া গেলে ফোনটির চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন, দাম ও বাজারজাতকরণের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।






















