নতুন প্রজন্মের এম৬ (M6) চিপ যুক্ত করে ২৪ ইঞ্চি আইম্যাক ও ১৪ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রো হালনাগাদ করেছে অ্যাপল। ২৭ অক্টোবর নতুন কম্পিউটার দুটির ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। তবে চিপ পরিবর্তন ছাড়া নকশা, ডিসপ্লে ও পোর্টের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
অ্যাপলের দাবি, নতুন চিপের কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ, গ্রাফিকস প্রসেসিং এবং একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে ব্যবহারের ক্ষেত্রে উন্নত পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে। নতুন আইম্যাকের দাম শুরু ১ হাজার ৪৯৯ ডলার থেকে। অন্যদিকে ১ টেরাবাইট স্টোরেজসহ ১৪ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোর প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার।
তবে নতুন কম্পিউটার দুটি অ্যাপলের বহুল আলোচিত টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো নয়। ওএলইডি টাচস্ক্রিন ও নতুন নকশার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাকবুক প্রো নিয়ে আলাদা ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রযুক্তি মহলে আলোচনা চলছে।
এম৬ চিপে বড় পরিবর্তন আইম্যাকে
নতুন আইম্যাকে সর্বোচ্চ ১২ কোরের সিপিইউ ও ১২ কোরের জিপিইউ রয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সিপিইউতে দুটি সুপার কোর, চারটি পারফরম্যান্স কোর ও ছয়টি এফিশিয়েন্সি কোর থাকার কথা বলা হয়েছে। জিপিইউতে রয়েছে রে ট্রেসিং প্রযুক্তি ও নিউরাল অ্যাকসেলারেটর।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজের জন্য নতুন চিপে নিউরাল ইঞ্জিনও রয়েছে। অ্যাপলের দাবি, আগের এম৪ চিপের তুলনায় নতুন আইম্যাকে নির্দিষ্ট এআই মডেল চালানোর গতি সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ এবং গ্রাফিকসের কাজের গতি দ্বিগুণ হতে পারে। ছবি সম্পাদনা, গ্রাফিকস তৈরি এবং কম্পিউটারে স্থানীয়ভাবে এআই মডেল চালানোর ক্ষেত্রে এ উন্নতি কাজে আসতে পারে।
মেমোরি ব্যান্ডউইডথেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জিবি মেমোরির সংস্করণে ব্যান্ডউইডথ প্রতি সেকেন্ডে ১৫৩ গিগাবাইট এবং ২৪ ও ৩২ জিবি সংস্করণে ১৭০ গিগাবাইট হতে পারে। তুলনায় এম৪ আইম্যাকের ব্যান্ডউইডথ ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১২০ গিগাবাইট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেশি মেমোরি ব্যান্ডউইডথ বড় ফাইল নিয়ে কাজ, ভিডিও সম্পাদনা ও একাধিক ভারী অ্যাপ ব্যবহারে সুবিধা দিতে পারে। তবে প্রকৃত পারফরম্যান্স নির্ভর করবে সফটওয়্যার, মেমোরি কনফিগারেশন ও কাজের ধরনের ওপর।
আইম্যাকের নকশা ও ডিসপ্লে অপরিবর্তিত
নতুন আইম্যাকে আগের ২৪ ইঞ্চি মডেলের নকশা রাখা হয়েছে। এতে রয়েছে ৪.৫কে রেটিনা ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ৫০০ নিটস উজ্জ্বলতা, পি৩ ওয়াইড কালার এবং ট্রু টোন প্রযুক্তি। ঐচ্ছিক ন্যানো-টেক্সচার গ্লাসের সুবিধাও থাকতে পারে।
রঙের তালিকায় রয়েছে নীল, বেগুনি, গোলাপি, কমলা, হলুদ, সবুজ ও রুপালি। ডিসপ্লের চারপাশে সাদা বেজেল রাখা হয়েছে।
সংযোগের ক্ষেত্রে নতুন এন১ চিপের মাধ্যমে ওয়াই-ফাই ৭ ও ব্লুটুথ ৬ সমর্থনের কথা বলা হয়েছে। পোর্টের সংখ্যা ও বিন্যাসে বড় পরিবর্তন নেই বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চতর কনফিগারেশনে সর্বোচ্চ চারটি থান্ডারবোল্ট ৪ পোর্ট পাওয়া যেতে পারে।
এম৫-এর জায়গায় এম৬ চিপ ম্যাকবুক প্রোতে
১৪ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোর প্রাথমিক সংস্করণেও এম৫ চিপের পরিবর্তে এম৬ চিপ যুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ল্যাপটপটির নকশা, কাঠামো ও মিনি-এলইডি ডিসপ্লে আগের মতোই রয়েছে। এতে টাচস্ক্রিন যুক্ত হয়নি।
অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী, নতুন মডেলে গ্রাফিকসের কাজ সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ ২৫ শতাংশ দ্রুত হতে পারে। এতে ১৬ জিবি মেমোরি এবং একবার চার্জে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপের কথা বলা হয়েছে।
তবে শুধু চিপের প্রজন্ম দেখে সব ধরনের কাজে পারফরম্যান্স বিচার করা যায় না। এম৫ প্রো ও এম৫ ম্যাক্সের মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপে বেশি কোর ও বেশি মেমোরি ব্যান্ডউইডথ থাকলে ভিডিও সম্পাদনা, ত্রিমাত্রিক গ্রাফিকস ও জটিল কম্পিউটিংয়ের কাজে সেগুলো এগিয়ে থাকতে পারে। ফলে কোন মডেল বেশি কার্যকর হবে, তা ব্যবহারকারীর কাজ ও কনফিগারেশনের ওপর নির্ভর করবে।
টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রোর অপেক্ষা
নতুন আইম্যাক ও ১৪ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোতে চিপের উন্নতি থাকলেও নকশায় বড় পরিবর্তন নেই। তবে ভবিষ্যতের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ১৪ ও ১৬ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোতে ওএলইডি টাচস্ক্রিন এবং নতুন নকশা যুক্ত হতে পারে বলে প্রযুক্তি মহলে আলোচনা রয়েছে।
এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে ম্যাকবুকের ব্যবহার-পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রোর উন্মোচনের সময় ও স্পেসিফিকেশন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা উচিত।
দাম ও বাজারে আসার সময়
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইম্যাকের ১০ কোরের সংস্করণের দাম শুরু ১ হাজার ৪৯৯ ডলার থেকে। ১২ কোরের সংস্করণের দাম ১ হাজার ৬৯৯ ডলার। অন্যদিকে ১ টেরাবাইট স্টোরেজসহ ১৪ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোর প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার।
দুটি কম্পিউটারের প্রি-অর্ডার ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার এবং ৬ নভেম্বর থেকে সরবরাহ শুরুর কথা বলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন কনফিগারেশনের সরবরাহের সময় আলাদা হতে পারে।
উচ্চ মেমোরি ও স্টোরেজের সংস্করণ পেতে বেশি সময় লাগবে কি না, তা নির্ভর করবে উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য দুটি কবে পাওয়া যাবে এবং দাম কত হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে তা আলাদাভাবে জানা যাবে।





















