বাংলাদেশে স্মার্টফোনের মাদারবোর্ড উৎপাদন শুরু করেছে স্মার্ট হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এ লক্ষ্যে কারখানায় নতুন সারফেস মাউন্ট টেকনোলজি (এসএমটি) লাইন চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্য দিয়ে স্মার্টফোন উৎপাদনে সংযোজনের গণ্ডি পেরিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ধাপে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে অনার ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির নতুন এই উদ্যোগে স্মার্টফোনের মাদারবোর্ডে সরাসরি ইলেকট্রনিক উপাদান স্থাপন করা সম্ভব হবে। ফলে উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ দেশে সম্পন্ন করার পাশাপাশি আমদানি করা যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদন এবং ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করতে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং বিজনেস স্কুলের এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রামের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মার্ট হাইটেকের কারখানা পরিদর্শন করেছে।
নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্প্যান ক্যাপস্টোন কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত নয় মাসের ‘প্রজেক্ট স্মার্টঅ্যাসেন্ড’-এর অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলমান প্রকল্পটির লক্ষ্য, বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদন বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা।
প্রতিনিধি দলটি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্মার্ট হাইটেকের কারখানা ঘুরে দেখে। এ সময় নতুন এসএমটি লাইনসহ উৎপাদন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেয় তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজার, প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কার্যালয় ও অংশীদার দোকানগুলো পরিদর্শন করে। সফরকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা স্মার্ট হাইটেকের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
স্মার্ট হাইটেকের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও বাজার পরিস্থিতি সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এই কারখানা চালুর সময় আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশেই বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরি করা সম্ভব। নতুন এসএমটি লাইন সেই লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে। আমরা শুধু ফোন সংযোজন করছি না, ফোন তৈরি করছি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য রপ্তানি। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে “মেড ইন বাংলাদেশ” স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে চাই।’
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা নানিয়াং বিজনেস স্কুলের গ্লেন লিম বলেন, কারখানা পরিদর্শন ও স্থানীয় বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দলের সদস্যরা স্মার্টফোন শিল্প সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কারখানা পরিদর্শনের সুযোগ করে দেওয়ায় স্মার্ট হাইটেকের সবাইকে ধন্যবাদ।’
স্মার্ট হাইটেক ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে কারখানাটি চালু করে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত প্রথম অনার স্মার্টফোন ছিল ‘অনার এক্স৬সি’, যা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে বাজারে আসে। নতুন এসএমটি লাইন চালুর ফলে দেশে স্মার্টফোন উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।




















