২০২৭ থেকে সেমিকন্ডাক্টর খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ চীন, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী চিপ বাজারকে ছাড়িয়ে যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চাহিদা এবং ওয়াশিংটনের স্থানীয় চিপ উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এর মূল কারণ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিল্প সংস্থা সেমি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭-৩০ পর্যন্ত চিপ খাতে বিনিয়োগে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখতে পাবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে থাকবে চিপ তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা এবং নতুন কারখানা নির্মাণ করার খরচ।
সেমির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ চলতি বছর এবং আগামী বছর প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ছাড়াবে। ২০২৭-২৮ সালে তা যথাক্রমে ৩ হাজার ৩০০ কোটি এবং ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে।
সেমির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ক্লার্ক সেনগ জানিয়েছেন, ২০২৭-৩০ সাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট চিপ বিনিয়োগ প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার হবে, যা বিশ্বের অন্য কোনো স্থানে দেখা যাবে না।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে যে পরিমাণ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে এখানে চিপ শিল্পের বৃদ্ধি বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় দ্রুত হতে পারে।’
সেমির প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে ১২ ইঞ্চি (৩০০ মিমি) সেমিকন্ডাক্টর ওয়েফার (চিপ তৈরির মূল উপাদান) তৈরি করার জন্য যেসব চিপ কারখানা কাজ করছে, সেখানে যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামে খরচ দুই বছরের মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। কারণ এআই প্রযুক্তির জন্য চিপ উৎপাদন দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামে বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হচ্ছে।
এছাড়া এ খাতে চিপ উৎপাদনের উপকরণে খরচ চলতি বছর প্রথমবারের মতো ১০ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সেমি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্সে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সেমিকন ওয়েস্ট ইভেন্টে হাজার হাজার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন ছিল, এআইচালিত চিপের চাহিদা কতদিন চলবে।
চ্যাটজিপিটি ২০২২ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ডাটা সেন্টার এবং এজ কম্পিউটিংয়ের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা জেনারেটিভ এআই যুগের সূচনা করেছে বলে মনে করেন অনেকে।






















