বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি মোবাইল-সংযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোয় প্রায় সর্বত্র পৌঁছে গেছে স্মার্টফোন। শীর্ষ ১০টি উন্নত দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষই একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম এক্সপ্লোডিং টপিকস।
মোবাইল-সংযুক্ত ডিভাইস বলতে স্মার্টফোনসহ এমনসব ডিভাইসকে বোঝায়, যা মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে এবং ডাটা আদান-প্রদান করতে পারে।
আজকের দিনে মোবাইল-সংযুক্ত ডিভাইস দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত হলো স্মার্টফোন, যা কল, মেসেজ, ই-মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য ব্যবহার হয়। এছাড়া ট্যাবলেট পড়াশোনা, অনলাইন মিটিং ও ভিডিও দেখার জন্য জনপ্রিয়। স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ট্র্যাকার স্বাস্থ্য, ধাপ গণনা ও নোটিফিকেশন দেখায়। স্মার্ট হোম ডিভাইস, যেমন লাইট, থার্মোস্ট্যাট ও নিরাপত্তা ক্যামেরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এছাড়া আছে গেমিং কনসোলসহ কানেক্টেড মেডিকেল ডিভাইসও।
ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি ডিভাইসগুলোর ব্যবহার বাড়ায় প্রতিদিনের কাজ আরো স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠছে। উদাহরণস্বরূপ, স্মার্ট লাইট, নিরাপত্তা ক্যামেরা এবং ঘরের অন্যান্য যন্ত্র মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশ্বের প্রায় এক হাজার কোটি মোবাইল-সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে স্মার্টফোনের পর ট্যাবলেট ও আইওটি ডিভাইসই প্রধান। জার্মানিভিত্তিক অনলাইন প্লাটফর্ম স্ট্যাটিস্টার তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে শুধু আইওটি ডিভাইসের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় দুই হাজার কোটিতে এবং নয় বছর পর অর্থাৎ ২০৩৪ সালের মধ্যে তা ছাড়াবে চার হাজার কোটি।
বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বব্যাপী মোট সেলুলার ফোনের প্রায় ৯০ শতাংশ এখন স্মার্টফোনের দখলে। মোবাইল প্রযুক্তির এ দ্রুত প্রসার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। এখন কম্পিউটার, ট্যাবলেট, স্মার্টওয়াচ, হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্রপাতি সবই মোবাইলের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ডাটার সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে জটিলতাও তৈরি হচ্ছে।
সাধারণত ঘরের লাইট, ফ্যান ও টেলিভিশন কিংবা এসি রিমোট ও সুইচ দিয়ে পরিচালনা করা হয়। তবে আইওটির উত্থান ও ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে এখন বেশির ভাগ উন্নত দেশে ঘরের প্রতিটি ইলেকট্রনিকস পণ্য একটি স্মার্টফোন দিয়েই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
বিশ্বে প্রায় ৭২১ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্বজনসংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটি ধরা হলে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ মোবাইল-সংযুক্ত ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ডিজিটাল কার্যক্রমের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।






















