এআই ডিভাইসের বদলে ওপেনএআইয়ের নিজস্ব ফোন তৈরি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্মার্ট হোম ডিভাইস কোম্পানি নেস্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ম্যাট রজার্স।
চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবারের মতো হার্ডওয়্যারের জগতে প্রবেশের কথা জানায় চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। ছোট আকারের, স্ক্রিনবিহীন ও আইপড শাফলের মতো দেখতে ক্যামেরাযুক্ত ডিভাইসটি ডিজাইন করবেন অ্যাপলের সাবেক প্রধান ডিজাইনার জনি আইভ।
যেহেতু এর আগেও এআই ডিভাইস তৈরির উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে তাই লেখক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ম্যাট রজার্স ওপেনএআইয়ের ডিভাইসটি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এআই ডিভাইসের বদলে স্মার্টফোন আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ম্যাথিউ বলেন, ‘গত বছর “র্যাবিট আর-ওয়ান” নামে পকেটে বহনযোগ্য একটি এআই সঙ্গীর প্রচার-প্রচারণা করা হয়। কিন্তু এটি এমন এক সময় বাজারে আসে, যখন ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেননি ডিভাইসটির প্রয়োজন কী। এরপর এআই নেকলেস ‘ফ্রেন্ড’ নিয়েও ব্যবহারকারীদের মনে একই প্রশ্ন জাগে, এটি দিয়ে আসলে তারা কী করবে?’
রজার্সের মতে, ইলেকট্রনিকস কোম্পানি হিউম্যানের তৈরি প্রথম এআই হার্ডওয়্যার প্রকল্পটিও ব্যর্থ হয়েছে। কারণ এসব পণ্য বাস্তব ব্যবহারের জন্য নয়, বরং অতিরিক্ত প্রচারণার ভিত্তিতে তৈরি ছিল। উদাহরণ হিসেবে হিউম্যানের এআই পিনকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডিভাইসটি স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে আনা হলেও ই-মেইলসহ সাধারণ অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়নি। এছাড়া হিউম্যানের এআই পিন কাপড়ে লাগিয়ে ব্যবহার করতে হতো। ফলে সরাসরি জামার দিকে মুখ রেখে কথা বলাটাও অনেকের কাছে অস্বাভাবিক বা বিব্রতকর মনে হতে থাকে।’
তিনি বলেন, হিউম্যান এআই পিন, র্যাবিট আর-ওয়ান ও ফ্রেন্ড—তিনটি পণ্যই অতিরিক্ত প্রচার করা হলেও কার্যকরভাবে তৈরি হয়নি। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর বাস্তবসম্মত চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। এসব কোম্পানি মূলত প্যাকেজিং, নকশা ও প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।’
ম্যাথিউ অ্যাপলের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আইফোন বানানোর সময় অ্যাপল অন্যদের মতো শুধু আকর্ষণীয় নকশা বা প্রচারণার দিকে নজর দেয়নি; বরং মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান করার দিকেই জোর দিয়েছিল।’
তবে তিনি আরো উল্লেখ করেন, এআই-চালিত ফোন তৈরির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে গুগলের ওপর নির্ভরতা। কারণ অ্যাপলের বাইরে স্মার্টফোন তৈরিতে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অবকাঠামোই একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখা হয়।






















