চীনের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি এবার নিজেদের সবচেয়ে দামি গাড়ি বিক্রির রেকর্ড গড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিলাসবহুল সাব-ব্র্যান্ড ‘ইয়াংওয়াং’-এর নতুন বিদ্যুচ্চালিত সুপারকার ‘ইউ৯ এক্সট্রিম’ বিক্রি হয়েছে ২ কোটি ইউয়ানের বেশি দামে (২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার)। বেইজিং অটো শো ২০২৬-এ সম্প্রতি গাড়িটি প্রদর্শন করা হয়। সেখানেই একটি গাড়ি বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।
বিওয়াইডির ব্র্যান্ডিং ও জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক লি ইউনফেই বলেন, ‘এবারের প্রদর্শনীতে এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া গাড়ি।’
‘ইউ৯ এক্সট্রিম’ এখন পর্যন্ত বিওয়াইডির সবচেয়ে দামি গাড়ি। বিশ্বজুড়ে এ মডেলের মাত্র ৩০টি গাড়ি তৈরি করা হয়েছে। সীমিত উৎপাদনের মাধ্যমে গাড়িটিকে বিশেষ ও বিরল পণ্যে পরিণত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
গাড়িটির পারফরম্যান্স নিয়েও বড় দাবি করেছে বিওয়াইডি। কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, গাড়িটি জার্মানির বিখ্যাত রেসিং ট্র্যাক ৬ মিনিট ৫৯ দশমিক ১৫৭ সেকেন্ডে ঘুরে শেষ করেছে। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির মধ্যে এটি অন্যতম দ্রুত সময় বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া চীনের ঝুঝৌ, ঝুহাই, চেংদু তিয়ানফু ও সাংহাইয়ের বিভিন্ন রেসিং সার্কিটেও গাড়িটি রেকর্ড গড়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও গাড়িটি বেশ শক্তিশালী। এতে রয়েছে তিন হাজার হর্সপাওয়ারের বেশি ক্ষমতার মোটর। ব্যবহার করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক স্থাপনা। গাড়িটিতে বিওয়াইডির নিজস্ব ‘ডাইসাস-এক্স’ অ্যাকটিভ সাসপেনশন সিস্টেম রয়েছে। পাশাপাশি উন্নত কার্বন-সিরামিক ব্রেক ডিস্ক ব্যবহার করা হয়েছে।
একই প্রদর্শনীতে ইয়াংওয়াং আরেকটি বিলাসবহুল এসইউভি ‘ইউ৮এল’ও উন্মোচন করেছে। চার আসনের গাড়িটি অতিধনী গ্রাহকদের লক্ষ্য করে তৈরি। বাজারে এটি মার্সিডিজ-বেঞ্জের মেব্যাক জিএলএস ৬০০ মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাড়িটির সম্ভাব্য দাম ১৩ লাখ ইউয়ানের বেশি হতে পারে।
বিওয়াইডির প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে ইয়াংওয়াং মূলত কমসংখ্যক, কিন্তু উচ্চমূল্যের গাড়ির বাজার ধরতে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি গণহারে গাড়ি বিক্রির বদলে বিশেষ শ্রেণীর ক্রেতাদের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
চীনের ইভি ডাটাট্র্যাকারের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইয়াংওয়াং চীনের বাজারে ৯৪৫টি গাড়ি বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। তবে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় বিক্রি কমেছে।




















