স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমানের পুনর্নিয়োগে সম্মতি দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, সার্বিক মূল্যায়নের পর তার পুনর্নিয়োগ অনুমোদনের সুযোগ নেই।
আজ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সামগ্রিক পর্যালোচনায় মো. হাবিবুর রহমানকে পুনরায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে ব্যাংকটির জন্য একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ, অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নানা অভিযোগকে ঘিরে মো. হাবিবুর রহমানের পুনর্নিয়োগ শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকটির ১৬ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদও বিভক্ত হয়ে পড়ে। পর্ষদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলে। এই পক্ষের দাবি, এর আগে ইউনিয়ন ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে মো. হাবিবুর রহমান ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় তিনি এস আলম গ্রুপের পক্ষে বড় অঙ্কের অনিয়মিত ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে একাধিক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাইরে পাচারের ঘটনা ঘটেছে।
মো. হাবিবুর রহমান ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ইউনিয়ন ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন বলে জানা যায়। তবে অতীতে ব্যাংকের ঊধ্বর্তন পর্যায়ে কর্মরত অবস্থায় বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য সমালোচিত হন তিনি। সম্প্রতি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি পুনর্নিয়োগ নিয়ে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি পত্রিকায় প্রধান শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়।






















