জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো দৃশ্যমান প্রভাব নেই। বরং সয়াবিন তেলের সরবরাহ ঘাটতি, অতিরিক্ত দাম এবং শর্তসাপেক্ষ বিক্রির মতো অনিয়ম এখন খোলামেলাভাবেই চলছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল অনেক দোকানেই নেই। কোথাও পাওয়া গেলেও তা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে তেলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে অন্যান্য পণ্য কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই চাপে তারাও পড়েছেন ওপরের স্তর থেকেই।
সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) উল্লেখ থাকলেও তা উপেক্ষিত হচ্ছে বাজারে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের এমআরপি লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা নির্ধারিত কিন্তু বাস্তবে খোলা সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাম তেল ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমনকি যেসব দোকানে বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও অনেক ক্ষেত্রে এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
রাজধানীর এক খুচরা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা নিজেরাও তেল ঠিক দামে পাই না। কোম্পানির ডিলাররা তেল দিতে গেলে অন্য পণ্যও নিতে বাধ্য করে। বেশি দামে তেল কিনতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়, নাহলে লোকসান গুনতে হবে।”
এ অবস্থায় সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ক্রেতা বিপ্লব সাহা একজন বেসরকারি চাকুরিজীবী, অভিযোগ করে বলেন, “সরকারের উচিত শুধু বৈঠক না করে বাজার তদারকিতে কঠোর হওয়া। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মজুতদারি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও শর্তসাপেক্ষ পণ্য বিক্রির মতো অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও কার্যকর না করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।”
শুধু ভোজ্যতেল নয়, সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের বাজারেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ স্পষ্ট। চাল, ডাল, সবজি—সবকিছুর দামই বাড়তির দিকে। অথচ মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে অনেক পরিবারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি একটি বড় কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানি সমন্বয়ের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই খরচ বাড়ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু জ্বালানি খরচ নয়—সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজার তদারকির ঘাটতি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সক্রিয়তাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি মুনাফা নেওয়ার অভিযোগও উঠছে বারবার।
এ অবস্থায় বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর তদারকি, সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন ভোক্তারা।



















