ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘স্বল্প মূল্যে স্বর্ণ’ বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন চোখে পড়ছে। তবে এসব বিজ্ঞাপনের আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ধরণের সাইবার জালিয়াতির ছক। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
জুয়েলারি ব্যবসা এবং স্বর্ণ আমদানির সাথে জড়িত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে যে সব প্রতিষ্ঠান বা পেইজ অবিশ্বাস্য কম দামে স্বর্ণ বিক্রির প্রচার চালাচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের কাছে স্বর্ণের কোনো বাস্তব মজুত নেই। সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে তারা নামমাত্র মূল্যের প্রলোভন এবং ভুয়া লাকি কুপনের মতো ছল-চাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে।
সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, অনলাইনে প্রচার চালানো এসব চক্রের অধিকাংশেরই কোনো ট্রেড লাইসেন্স বা জুয়েলারি ব্যবসার বৈধ কাগজপত্র নেই। কর্মকর্তাদের মতে:
ভুয়া প্রচার: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্বর্ণ বিক্রির কথা বলে যারা প্রচার চালাচ্ছেন, তাদের কাছে আদৌ কোনো স্বর্ণ আছে কি না তা নিয়ে প্রবল সন্দেহ রয়েছে।
পেমেন্ট জালিয়াতি: অনেক ক্ষেত্রে অগ্রিম টাকা বা বুকিং মানি নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায় না।
মান নিয়ন্ত্রণ: কিছু ক্ষেত্রে স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া নকল অলংকার আসল হিসেবে গছিয়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অনলাইনে কোনো দামী অলংকার বা সোনা কেনার আগে ‘টেকজুম টিভি’ পাঠকদের জন্য কিছু টিপস:
১. ভেরিফিকেশন: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শোরুমের ঠিকানা এবং বিএপিএস (BAPS) এর সদস্যপদ আছে কি না যাচাই করুন।
২. অবাস্তব দাম: বাজারে স্বর্ণের যে সরকারি রেট রয়েছে, তার চেয়ে অনেক কম দামে কেউ স্বর্ণ দিতে চাইলে তা নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা।
৩. অজ্ঞাত পেমেন্ট এড়ান: অপরিচিত কোনো অনলাইন পেইজে অগ্রিম টাকা বা বিকাশ পেমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।



















