দেশের ব্যাংকিং সেক্টর যখন খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত, তখন একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছে সিটি ব্যাংক। সবশেষ ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকটি কেবল রেকর্ড মুনাফাই করেনি, বরং খেলাপি ঋণ কমিয়ে এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শক্তিশালী ম্যানেজমেন্ট এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবার সমন্বয়ে ব্যাংকটি এখন বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে।
রেকর্ড মুনাফা ও আয়ের উল্লম্ফন
ব্যাংকটির বিগত ৭ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সিটি ব্যাংক এখন প্রবৃদ্ধির হাইওয়েতে রয়েছে:
নিট মুনাফা: ২০১৯ সালে নিট মুনাফা ছিল ২৬৩.৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে পৌঁছেছে ১,৩২৪.২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ৬ বছরে মুনাফা বেড়েছে ৫ গুণ!
ইপিএস (EPS): শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২.৬০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৭০ টাকায়।
সম্পদমূল্য (NAV): শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ২৪.১০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০.৬০ টাকা।
খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বড় সাফল্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের গড় হার যেখানে ৩০.৬০ শতাংশ, সেখানে সিটি ব্যাংক তা নামিয়ে এনেছে মাত্র ২.৫ শতাংশে। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৫.৮ শতাংশ। বর্তমান বাস্তবতায় খেলাপি ঋণের এই নিম্নমুখী হার ব্যাংকটির ঋণের গুণগত মানকেই প্রমাণ করে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় লভ্যাংশ
বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিদান দিতে ২০২৫ সালের জন্য সিটি ব্যাংক ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ (১৫% নগদ ও ১৫% বোনাস শেয়ার) ঘোষণা করেছে। আগের বছরগুলোতেও ব্যাংকটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে। পুঁজিবাজারে সর্বশেষ লেনদেনে ব্যাংকটির শেয়ারদর ছিল ৩১ টাকা।
কেন সফল সিটি ব্যাংক?
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন-এর মতে, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কয়েকটি মূল কারণ:
১. সেগমেন্টেড ইনকাম: রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড বিজনেস এখন কর্পোরেট ব্যাংকিং আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। কার্ড ব্যবসায় ব্যাংকটির আয় গত বছরের চেয়ে ৩৩% বেড়েছে।
২. কম খরচে আমানত: আমানতের খরচ (Cost of Deposit) ৫.৫% পর্যায়ে ধরে রাখতে পারা সিটি ব্যাংকের একটি বড় শক্তি।
৩. দক্ষতা: ৮,০০০ কর্মীর এই বিশাল ব্যাংকের ‘কস্ট-টু-ইনকাম’ অনুপাত ৪৫%-এর নিচে রাখতে পারা একটি বড় সাফল্য।



















