আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, এয়ারলাইনস, শিপিং, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংসহ বেশ কয়েকটি খাতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আওতাধীন থাকছে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক পরিবহনসেবা খাতও। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি বিধিনিষেধ। এখন থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়া টিকিট ইস্যু করতে পারবে না কোনো এয়ারলাইনস বা ট্রাভেল এজেন্ট। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধান তুলে ধরা হয়।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। বিদেশী নাগরিক, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব, বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ বা প্রিপেইড টিকিট অ্যাডভাইস ব্যবহার করে টিকিট ইস্যুর অনুমতি দেয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। তবে মানি চেঞ্জারের নগদায়ন সনদ গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশী জাহাজকর্মীদের বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। টিকিট ইস্যুর আগে বৈধ কন্টিনিউয়াস ডিসচার্জ সার্টিফিকেট, শিপিং মাস্টারের ছাড়পত্র এবং বিদেশী শিপিং কোম্পানির অর্থ পরিশোধের প্রমাণ যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশী টাকায় কেনা আন্তর্জাতিক টিকিটের অর্থ বিদেশে ফেরত দেয়া যাবে না বলেও স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। টিকিট বাতিলের অর্থ দেশে টাকায় পরিশোধ করতে হবে।
বিদেশী এয়ারলাইনস ও শিপিং কোম্পানির বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত ফরমে নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। বিদেশে মুনাফা পাঠানোর আগে স্থানীয় ব্যয়, কর, কমিশন ও সম্ভাব্য ফেরতের অর্থ সমন্বয় করতে হবে। অব্যবহৃত টিকিটের বিপরীতে কমপক্ষে ১০ শতাংশ অর্থ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ট্যুর অপারেটরদের জন্যও নতুন বিধান আনা হয়েছে। একজন ভ্রমণকারী তার বার্ষিক ভ্রমণ কোটার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ ব্যবহার করে ভ্রমণ প্যাকেজ কিনতে পারবেন। বিদেশী পর্যটকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ট্যুর অপারেটরদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমা হবে এবং এর বড় অংশ টাকায় রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে ট্যুর অপারেটরদের মোট বিক্রির অন্তত ২৫ শতাংশ ইনবাউন্ড ট্যুর প্যাকেজ হতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে বিদেশী মুদ্রায় জ্বালানি ক্রয়, টিকিট বিক্রি ও পণ্য পরিবহন ভাড়া আদায়ের সব তথ্য অনলাইন রিপোর্টিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।





















