দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে চালু থাকা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) কাঠামো বাস্তবে প্রত্যাশিত কার্যকারিতা অর্জন করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান কাঠামোতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা নিজেদের সেবার নিয়ন্ত্রণ আলাদাভাবে পরিচালনা করায় একক প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
১৮ জুন বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্লোস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, বিদ্যমান ওএসএস পোর্টালকে পুনর্গঠন করে এখন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে এপিআইভিত্তিক সংযোগের মাধ্যমে একীভূত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই আবেদন জমা দিতে পারবেন, তবে অনুমোদন সংশ্লিষ্ট সংস্থাই দেবে।
সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল প্রশাসনিক মডেলের উদাহরণ তুলে ধরে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ অনুমোদন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নাগরিক বা বিনিয়োগকারীকে আলাদা আলাদা দপ্তরে যেতে হবে না। এজন্য ধাপে ধাপে ম্যানুয়াল আবেদন পদ্ধতি সীমিত করার বিষয়েও নীতিগত আলোচনা চলছে।
বিনিয়োগ পরিবেশের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মধ্যে লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা শুরুর আগে একাধিক সরকারি সংস্থায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে ডিজিটালাইজেশন কর্মসূচির মাধ্যমে অনুমোদনের সময় কয়েক মাস থেকে কয়েক দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি অবকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন শিল্পায়ন ও বড় বিনিয়োগ বাস্তবায়নে জ্বালানি সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মহেশখালীভিত্তিক বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত সক্ষমতা গড়ে তুলতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ বিশ্বজুড়েই চাপের মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় বিডা বর্তমানে দেশীয় বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং অব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় সম্পদের অর্থনৈতিক ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগে গুরুত্ব দিচ্ছে।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় প্রণোদনার চেয়ে নীতিমালার ধারাবাহিকতা, বাস্তবায়নের পূর্বানুমেয়তা এবং দ্রুত সেবা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, নীতির ব্যাখ্যা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান কমানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও শক্তিশালী হতে পারে।






















