ভুল করে অন্য এক গ্রাহকের হিসাবে ৫০ হাজার টাকা চলে যাওয়ার দুই মাসের বেশি সময় পরও অর্থ ফেরত কিংবা এ বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দ্য সিটি ব্যাংক পিএলসির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক আব্দুল্লাহ আল মাসুদের অভিযোগ, বিষয়টি সমাধানের আশ্বাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার পরও ব্যাংকটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে নিজের সিটি ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর সময় নামের মিল থাকায় আগে থেকে সংরক্ষিত অন্য একটি বেনিফিশিয়ারি নির্বাচন করেন মাসুদ। এতে ভুলবশত ৫০ হাজার টাকা অন্য একজনের সিটি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যায়।
ভুলটি বুঝতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ইসলামী ব্যাংকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। পরে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকেও সিটি ব্যাংকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয় বলে জানান তিনি।
তবে এরপরও অর্থ ফেরত পেতে জটিলতার মুখে পড়েন ওই গ্রাহক। নিজের পক্ষ থেকেও সিটি ব্যাংকের শাখা ও প্রধান কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন মাসুদ। তাঁর দাবি, পোস্টটি নজরে আসার পর সিটি ব্যাংকের কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের কর্মকর্তা মুনতাকিম মাহমুদ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন এবং পোস্টটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন।
গ্রাহকের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তার আশ্বাসে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক জবাবও তিনি পাননি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন মাসুদ। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, সিটি ব্যাংকের কাছ থেকে লিখিত উত্তর বা সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত তাদের পক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী জানান, অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনি জানতে পেরেছেন, ভুল করে টাকা চলে যাওয়া সিটি ব্যাংকের হিসাবটি কোনো আইনি কারণে ‘রেস্ট্রিক্টেড’ বা সীমাবদ্ধ অবস্থায় থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো লিখিত নথি বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি তিনি।
দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিজের টাকা আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাসুদ দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি এবং অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকের পক্ষ থেকে কী কারণে অর্থ ফেরত দিতে দেরি হচ্ছে, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যাও চান তিনি।




















