পণ্য বা সেবার মূল্য বাংলা কিউআরের মাধ্যমে গ্রহণ করে সেই অর্থ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে গেলে বিক্রেতাকে ১ শতাংশ হারে মাশুল দিতে হতো। এ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে আজ থেকে মার্চেন্টের অর্থ উত্তোলনে ১ শতাংশ এমডিআর দিতে হবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘সর্বস্তরের মানুষের জন্য টেকসই ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে একটি নিরাপদ, সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তঃডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা অপরিহার্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বাংলা কিউআরের ব্যবহার গত কয়েক মাসে দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে ৪০ লাখ মার্চেন্ট এ প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে। জুনে ব্যাংক বা এমএফএসের নিজস্ব কিউআর কোডের বিপরীতে একক ‘বাংলা কিউআর’ কোড বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর থেকে এ প্লাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেন সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে। আর্থিক মূল্যে এ লেনদেন বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। জুনে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ লেনদেনের অর্থমূল্য ছিল ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে সেই লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখে পৌঁছেছে, যার অর্থমূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
তিনি আরো জানান, আজ থেকে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পারসন টু পারসন (পিটুপি) লেনদেন চালু হবে। এর ফলে ব্যক্তিপর্যায়ের আন্তঃলেনদেন আরো সহজ হবে।
এতদিন বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিশোধকৃত অর্থ মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে জমা হতো দুই-একদিন পরে। তবে আজ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, ‘বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরো বাড়াতে ১ অক্টোবর (আজ) থেকে কিউআর কোডের মাধ্যমে পরিশোধ করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর মার্চেন্টকে অর্থ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।’
বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করার মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ৫০ শতাংশ লেনদেনকে নগদবিহীন করার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। এ প্রসঙ্গে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ১ অক্টোবর থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) প্লাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনে অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে দশমিক ১০ শতাংশ ও অর্থ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’ এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবাদাতাদের মধ্যে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বাংলা কিউআরে লেনদেন ব্যর্থ হলে দ্রুত অর্থ ফেরতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এ প্লাটফর্মের অন্যতম বড় সুবিধা আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কিউআর ব্যবহার করা হলেও অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেটি ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এতে আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে।




















