রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি উড়োজাহাজের চাকা ‘চুরি’ করে বেসরকারি সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে দিয়ে দেওয়ার এক নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং বিমানের প্রকৌশল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে।
এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তা স্টোর হেলপার সামছুল হক ও ম্যাটারিয়াল ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার মোঃ আরমান হাসানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৬ আগস্ট, শনিবার। ওইদিন সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশের অকশন শেড থেকে বিমানের ১০টি ‘আনসার্ভিসেবল’ বা অব্যবহারযোগ্য টায়ার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরবর্তীতে বিমানের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই টায়ারগুলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় গত সোমবার (১৮ আগস্ট) বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।
বিমানের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি উড়োজাহাজের চাকার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। সে হিসাবে ১০টি চাকার দাম প্রায় এক কোটি টাকা। এগুলো ব্যবহৃত বা ‘আনসার্ভিসেবল’ হলেও সংস্থার মূল্যবান সম্পদ, যা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া হস্তান্তর করা আইনত অপরাধ।
চাকা চুরির এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার মান নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। গত এক মাসের মধ্যে অন্তত আটবার বিমানের বিভিন্ন বোয়িং উড়োজাহাজে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে চাকা ফেটে যাওয়া, টয়লেটের ফ্লাশ বিকল হওয়া এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে ফ্লাইট বাতিল বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্বের মতো ঘটনাও রয়েছে। এসব ঘটনায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে এবং বিমানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চাকা চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে বিমান কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে, সম্প্রতি বারবার ঘটা কারিগরি ত্রুটির মূল কারণ অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের আরেকটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে ঘটে যাওয়া সব কারিগরি সমস্যার রেকর্ড যাচাই করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা বিমানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।






















