জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, অনলাইন রিটার্ন বা ই-রিটার্নের সঙ্গে ব্যাংকের সরাসরি সংযোগের প্রস্তাব করদাতার সুবিধার জন্য। এতে কোনো কর্মকর্তা করদাতার ব্যাংকের তথ্য দেখতে পাবেন না। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘মিট দ্য বিজনেস’ অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।
সম্প্রতি এনবিআর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগে পাঠানাে এক চিঠিতে বলা হয়, করদাতাদের অনলাইন রিটার্নের সঙ্গে সরাসরি ব্যাংকের সংযোগ থাকবে। পরে এ নিয়ে করদাতাদের অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এর ফলে তাদের ব্যাংক হিসাবে তথ্য এনবিআর কর্মকর্তাদের কাছে চলে যেতে পারে।
এনবিআর চেয়ারম্যান এ প্রসঙ্গে বলেন, এনবিআর বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। এর অর্থ এই নয় যে, এনবিআর করদাতাদের ব্যাংক হিসাব মনিটর করবে। বরং কর প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। করদাতার ব্যাংকের তথ্য কেউ জানতে পারবে না। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
‘মিট দ্য বিজনেস’ অনুষ্ঠানে এনবিআরে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এবং রাজস্ব আয়সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত সার্ভার বিষয়ে নানা অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কর আদায় ব্যবস্থা হয়রানিমুক্ত করতে এনবিআরের কার্যক্রমকে অনলাইনভিত্তিক করা ও প্রয়োজনীয় নিয়ম পরিবর্তনের আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে গিয়ে শুল্ক-কর ও কাস্টমস-সংক্রান্ত কী ধরনের সমস্যায় পড়েন তা শুনতেই এ সভার আয়োজন করা হয়। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে এসব অভিযোগ জানালেও এবার তারা এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে সরাসরি তাদের অভিযোগ জানালেন।
সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা এনবিআরের কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, হয়রানি ও অনিয়মের কারণে যেসব সমস্যায় পড়েন তা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাদের কারও অভিযোগ, টার্নওভার করহার বৃদ্ধি নিয়ে। আবার কেউ ভুয়া মামলা নিয়ে ক্ষোভ জানান। কেউ কেউ বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, সার্ভার সমস্যার কথাও জানান।
সভায় জেনিস সুজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির খান বলেন, ব্যবসায়ীরা ভুয়া মামলার মুখোমুখি হন। বহু বছর আদালতে লড়াই করে মুক্তি পেতে হয়। যেসব কর্মকর্তার কারণে এটি হয়, তাদের কোনো জবাবদিহি বা শাস্তি হয় না। এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মক্ষমতার হিসাব রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।
এনবিআরের কিছু কর্মকর্তা চাঁদাবাজি করেন বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি বলেন, যে পরিমাণ ভ্যাট আদায় হওয়ার কথা, তার মাত্র ২০ শতাংশ যায় সরকারি কোষাগারে। বাকি অর্থ এনবিআরের কর্মকর্তারা এবং কিছু ব্যবসায়ী যোগসাজশে দুর্নীতি করেন।
যশোর চেম্বারের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দরে নানা পচনশীল পণ্য আসে। খালাসে অনুমোদনে বিলম্বের কারণে অনেক পণ্য নষ্ট হয়।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু শাস্তি হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমবে। তবে মাঠ পর্যায়ে অনেক কর্মকর্তা ঠিকভাবে নির্দেশনা মানেন না। এটি নিয়ে ব্যবসায়ীদেরও সোচ্চার হতে হবে। কর্মকর্তারা আইনের ব্যত্যয় করলে সরাসরি অভিযোগ দিতে হবে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি এনবিআরের অভিযােগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ব্যবসার দৈনন্দিন কার্যক্রম সহজ করার জন্য কিছু নিয়ম সংশোধন করতে হবে।
ভ্যাট নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাট রেট নিয়ে অনেক আপত্তি আছে। প্রয়োজনে একক ভ্যাট রেট হবে। তামাক খাতে ঠিকভাবে আদায় হয় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ খাতে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি হয়। গত এক বছরে ৩ হাজার অডিট হয়েছে। সেখানে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।





















