দেশের আর্থিক খাতে বিপ্লব ঘটিয়ে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা ডিজিটাল ব্যাংকিং এখন নতুন উচ্চতায়। হাতের মুঠোয় থাকা মোবাইল ফোনটিই হয়ে উঠেছে কোটি মানুষের ব্যাংক। বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা, সরকারি সহায়তা থেকে শুরু করে প্রবাসী আয় গ্রহণ—সবকিছুই এখন আঙুলের ছোঁয়ায়। চলতি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এই খাতে লেনদেন হয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে এমএফএস প্ল্যাটফর্মগুলোতে নতুন করে ৬ লাখ ৩৯ হাজার গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। এর ফলে এই সেবার মোট নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ২৪ কোটি ৬৪ লাখে পৌঁছেছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহজ ব্যবহার, দ্রুততা এবং নির্ভরযোগ্যতার কারণে এমএফএস এখন দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারের আর্থিক লেনদেনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
লেনদেনের উল্লম্ফন:
করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল লেনদেনের যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, তা এখন আরও বেগবান হয়েছে।
- আগস্ট ২০২৫: ১, ৫১,১২৩ কোটি টাকা
- জুলাই ২০২৫: ১, ৪৮,৫৬৬ কোটি টাকা
- ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ১, ৫৯,০৮০ কোটি টাকা
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের জুলাই মাসের (১,২২,৯২২ কোটি টাকা) তুলনায় এই বছরের আগস্টে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে এমএফএস-এ সামগ্রিক লেনদেন বেড়েছে ৪১৫ শতাংশ, যা দেশের নগদ অর্থনির্ভর অর্থনীতিকে একটি স্মার্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
কেন এই বিপ্লব?
হাতের মোবাইলটি এখন আর শুধু যোগাযোগের যন্ত্র নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক। বিকাশ, রকেট, নগদসহ দেশের ১৩টি এমএফএস প্রতিষ্ঠান এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এর জনপ্রিয়তার পেছনে মূল কারণগুলো হলো:
- সহজলভ্যতা: যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময় টাকা পাঠানো ও গ্রহণ করার সুবিধা।
- সেবার পরিধি: ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি) পরিশোধ, কেনাকাটা, মোবাইল রিচার্জ, টিকিট কেনা, বেতন-ভাতা প্রদান এবং প্রবাসী আয় গ্রহণের মতো অসংখ্য সেবা।
- আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা।
- ক্যাশলেস অর্থনীতি: নগদ টাকার উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা, যা অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক দিক। পোশাক খাতের শ্রমিক থেকে শুরু করে গৃহপরিচারিকা পর্যন্ত সকলের বেতন এখন এমএফএস-এর মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞের মত:
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, “গ্রাহকরা এখন ঘরে বসেই মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন করতে পারছেন। নানাবিধ সুবিধার কারণে মোবাইল ব্যাংকিং দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক, কারণ এটি নগদ টাকার লেনদেন কমিয়ে আনছে।”
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের এই অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে, বাংলাদেশ দ্রুত একটি ক্যাশলেস সোসাইটি এবং স্মার্ট অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য আর্থিক সেবা সহজ






















