“আল্লাহর কাছে কত বলতেছি, আল্লাহ এর ফয়সালা করে দাও, আল্লাহ ফয়সালা করো। কোনো ফয়সালা হয় না। এই দেশে মানুষ নাই, সব চোর। এ চুরি করে একদল চলে গেছে, আর এদারে যা আছে চুরির ধান্দায় আছে।”
এভাবেই ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করছিলেন শেখ মোহাম্মদ জালালউদ্দীন নামের এক ভুক্তভোগী। সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মচারী তার সারাজীবনের সঞ্চয় সোনালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখায় রেখেছিলেন, কিন্তু ব্যাংক জালিয়াতির শিকার হয়ে আজ তিনি সর্বস্বান্ত।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সোনালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় হতাশ কণ্ঠে তিনি এই অভিযোগ করেন।
শেখ মোহাম্মদ জালালউদ্দীন জানান, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সোনালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখায় পাঁচ বছর মেয়াদী একটি সঞ্চয়ী হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা জমা রাখেন। শর্ত ছিল, তিনি মাসিক ৫,০০০ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন। এরপর ২০১৩ সালে জরুরি প্রয়োজনে তিনি তার এই সঞ্চয়ের বিপরীতে ৪ লাখ টাকা ঋণ নেন। ২০১৪ ও ২০১৫ সালের মধ্যে তিনি সুদসহ মোট ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬০১ টাকা পরিশোধ করে সেই ঋণ শোধ করেন।
কিন্তু ২০১৭ সালে তার সঞ্চয়ের মেয়াদ পূর্ণ হলে তিনি টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারেন, তার হিসাবে জমানো সব টাকা আগেই তুলে নেওয়া হয়েছে।
জালালউদ্দীন আরও অভিযোগ করেন, তার মূল অ্যাকাউন্টের নম্বর ৫০২৯ হলেও, অন্য একটি অ্যাকাউন্টের (নম্বর ২৭৯৯) মাধ্যমে তার সব টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যদি ব্যাংকের কাগজপত্র থেকেই টাকা উধাও হয়ে যায়, তবে এর দায়ভার কি ব্যাংকের নাকি গ্রাহকের?”
ভুক্তভোগী শেখ মোহাম্মদ জালালউদ্দীন এখন কোনো কূলকিনারা না পেয়ে কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করে আছেন এবং দ্রুত এই অর্থ জালিয়াতির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি ও তার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পাওয়ার আশা করছেন।





















