দেশের মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত আন্তঃলেনদেন (ইন্টারঅপারেবিলিটি) ব্যবস্থা গতকাল (১ নভেম্বর) চালু হয়েছে। তবে দেশের বৃহত্তম এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ এবং অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান নগদ এই সেবায় যুক্ত না হওয়ায় এর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা থেকে গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিকাশ কারিগরি প্রস্তুতির জন্য তিন মাস সময় চেয়েছে, অন্যদিকে নগদকে এ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার অনুমোদনই দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইন্টারঅপারেবল লেনদেন চালুর জন্য কারিগরি ও চার্জ নির্ধারণী সব বৈঠকেই বিকাশ এবং নগদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সব প্রতিষ্ঠানের মতামত নিয়েই গত ১৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সেবা চালুর জন্য ১ নভেম্বর তারিখ ঘোষণা করে।
তবে গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর বিকাশ ই-মেইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানায়, এই মুহূর্তে তারা প্রস্তুত নয় এবং সিস্টেমটি পুরোপুরি নিরাপদ করতে তাদের আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স না থাকায় নগদকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
প্রাথমিকভাবে ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এই সেবা চালুর লক্ষ্য থাকলেও দেশের সবচেয়ে বড় দুই এমএফএস প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ায়, গতকাল ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই সেবা চালু হয়েছে। আরও ৫টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “বিকাশ জানিয়েছে, আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থার জন্য তাদের সিস্টেম এখনও পুরোপুরিভাবে নিরাপদ নয়। যে কারণে তারা তিন মাস সময় চেয়েছে। নগদের বিষয়ে পরে জানানো হবে।”
আগের ব্যর্থতা ও ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্ম
এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক লেনদেন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত তাতে সফল হয়নি।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পৃক্ততায় ‘বিনিময়’ নামে একটি আন্তঃলেনদেন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়। সেখানে বিকাশ, রকেট, এম ক্যাশ ও ‘টালি পে’ ছাড়াও কয়েকটি ব্যাংক যুক্ত ছিল।
তবে গত বছরের ৫ আগস্ট (২০২৪) সরকার পতনের পর প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে বিপত্তি বাধে। জানা যায়, ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্মের প্রকৃত মালিক যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত পাঁচটি শেল কোম্পানি, যার পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সংশ্লিষ্টতা ছিল। সরকার পতনের পর থেকেই প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ হয়ে যায়।
নতুন সিস্টেমে চার্জ কত?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন এই আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থার জন্য সর্বোচ্চ চার্জ নির্ধারণ করে দিয়েছে।
- এক এমএফএস থেকে আরেক এমএফএসে: প্রতি হাজারে সর্বোচ্চ সাড়ে আট টাকা (০.৮৫ শতাংশ)।
- পিএসপি থেকে: প্রতি হাজারে দুই টাকা (০.২ শতাংশ)।
- ব্যাংক থেকে: প্রতি হাজারে দেড় টাকা (০.১৫ শতাংশ)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেম যাচাই করেই অনুমোদন দিয়েছে। নির্ধারিত চার্জ নিয়ে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আপত্তি জানালেও বাংলাদেশ ব্যাংক বাস্তবতার নিরিখেই এই চার্জ ঠিক করেছে।






















