দেশের মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে চালু হয়েছে। কিন্তু এই সেবা চালুর ঠিক আগ মুহূর্তে ‘নিরাপত্তা ইস্যু’ দেখিয়ে আকস্মিকভাবে বেকে বসেছে দেশের বৃহত্তম এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ।
নিরাপত্তার কথা বলে প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আরও তিন মাস সময় চেয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র বলছে, এটা বিকাশের একটা অজুহাত। ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা নিরাপত্তার ইস্যু দেখাচ্ছে। এই পদ্ধতি চালু হওয়ার পর বিকাশের একচেটিয়া ক্যাশআউট ব্যবসা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
সূত্রটি আরও দাবি করে, “পাইলট প্রজেক্টে পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় আমরা কোনো সমস্যা পাইনি। আর বিভিন্ন কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও তাদের বড় প্রভাব রয়েছে। সেটাকে তারা কাজে লাগাচ্ছে।… এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিকাশের পরস্পরবিরোধী অবস্থান
জানা গেছে, ইন্টারঅপারেবল লেনদেন চালুর জন্য কারিগরি ও চার্জ নির্ধারণী সব বৈঠকেই বিকাশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সব প্রতিষ্ঠানের মতামত নিয়েই গত ১৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সেবা চালুর জন্য ১ নভেম্বর তারিখ ঘোষণা করে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিকাশ ই-মেইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানায়, এই মুহূর্তে তারা প্রস্তুত নয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিকাশের সময় চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “বিকাশ আরও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার কথা বলে তিন মাস সময় চেয়েছে। আমরা এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি।”
পাইলট প্রকল্পের সময় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা গিয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, “আমরা ওই সময় বিকাশের নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি দেখিনি। এখন তারা কেন অনিরাপদ মনে করছে সেটার ব্যাখ্যা আমরা তাদের থেকে জানতে চাইবো। তারা এটার ব্যাখ্যা দিতে হবে।” তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহানুভূতি দেখানোর অভিযোগটিও নাকচ করে দেন।
অন্যদিকে, বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পিআর শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম ‘ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা’কে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এসব কথা সঠিক না। বিকাশ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান। বিকাশের ব্যবসা কমবে না।”
নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, বিকাশ এই সেবার সর্বশেষ সংস্করণে যুক্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই আংশিকভাবে লেনদেন চালু করেছে। তবে, তার মতে, আন্তঃলেনদেনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এই ব্যবস্থায় সংযুক্ত অন্যান্য অংশীজনদের ওপরও নির্ভর করে।
তিনি আরও বলেন, “তাই এই মুহূর্তে আমরা শক্তিশালী অথেন্টিকেশন এবং স্তরভিত্তিক (লেয়ারড) নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে লেনদেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং এই সংক্রান্ত কোনো বিরোধ (ডিসপিউট) দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করা যায়।”
নতুন সেবার চার্জ
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তঃলেনদেনে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার্জ নির্ধারণ করে দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক এমএফএস থেকে আরেক এমএফএসে টাকা পাঠাতে স্থানান্তরিত অর্থের ওপর সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি হাজারে সাড়ে আট টাকা চার্জ নেওয়া যাবে। পিএসপি নিতে পারবে প্রতি হাজারে দুই টাকা এবং ব্যাংক পাবে দেড় টাকা।





















