চলমান ব্যাংক খাতের দুরবস্থার মধ্যে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখাকে কিছুটা অনিরাপদ মনে করছেন। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, মূলধন ঘাটতি ও প্রভিশন সংকটের মতো খবরের মধ্যে গ্রাহকদের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে আশার আলো হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘সঞ্চয়পত্র’।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজের কষ্টের টাকা বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়পত্র বর্তমানে সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যমগুলোর একটি। কারণ এতে বিনিয়োগকৃত আসল টাকা ফেরত পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তার পাশাপাশি মুনাফার নিশ্চয়তাও রয়েছে, যা সরকার নিজেই গ্যারান্টি দেয়। এ কারণে বিনিয়োগের জন্য মধ্যবিত্তের অন্যতম পছন্দ এখন সঞ্চয়পত্র।
কে কত টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন? বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় ৪ ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু আছে। সব মিলিয়ে একজন ব্যক্তি একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন (পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে)।
- পরিবার সঞ্চয়পত্র: শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী (নারী-পুরুষ) এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকেরা এটি কিনতে পারবেন। ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা যায়।
- পেনশনার সঞ্চয়পত্র: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মৃত চাকরিজীবীর পেনশন সুবিধাভোগীরা এটি কিনতে পারেন। ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কেনা যায়।
- ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র: এই সঞ্চয়পত্র একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকার কিনতে পারবেন।
- ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: এটিও একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্রয় করা যায়।
উল্লেখ্য, পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া বাকি সব সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও (নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে) বিনিয়োগ করতে পারবে।
কোন সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কত? সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ব্যাংকের আমানতের চেয়ে বেশি। তবে বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর মুনাফার হার কিছুটা কম-বেশি হয়।
- পেনশনার সঞ্চয়পত্র: সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সবচেয়ে বেশি। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে এই হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
- পরিবার সঞ্চয়পত্র: সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
- বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র (৫ বছর মেয়াদি): সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
- মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র (৩ মাস অন্তর): সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
তবে সব ক্ষেত্রেই মেয়াদ পূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে মুনাফার হার আনুপাতিক হারে কমে যায়।
কোথায় কিনবেন? জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল শাখা, যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা এবং ডাকঘর থেকে এসব সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।






















