কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি রাজিব আহমেদের ছবি ও অবয়ব ব্যবহার করে ফেসবুকে একটি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি নির্দিষ্ট পোস্ট বা লিংকের মাধ্যমে এই এআই-জেনারেটেড ফেইক ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অনলাইনে অনিয়ন্ত্রিত এসব বিজ্ঞাপনের কারণে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন, অন্যদিকে ভুক্তভোগী বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা পড়ছেন চরম বিড়ম্বনায়।
এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ই-ক্যাবের প্রতিষ্ঠাতা রাজিব আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকে—অর্থাৎ অনলাইনে এই ধরনের প্রতারণা গত কয়েক বছর ধরে চলছে। ফেসবুকে পরিচিত মুখ যারা, অথবা সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাই এই ধরনের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন নিয়মিত।”
তিনি জানান, কখনো লোভনীয় চাকরি, কখনো লাভজনক সুযোগে বিনিয়োগ, আবার কখনো স্পর্শকাতর ওষুধের লোভ দেখিয়ে ফেসবুকে এসব বিজ্ঞাপন ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসবের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা বেশ কঠিন। রাজিব আহমেদ বলেন, “কারা করছে তাদের বের করার উপায় আসলে আমাদের জানা নেই। এটা একমাত্র ফেসবুক বা মেটা কর্তৃপক্ষ বলতে পারে।”
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এমন প্রতারণামূলক এআই ভিত্তিক বিজ্ঞাপন সামনে আসলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কী করা উচিত, সে বিষয়েও জরুরি পরামর্শ দেন এই ই-কমার্স উদ্যোক্তা।
“এমন এআই ভিত্তিক বিজ্ঞাপন সামনে আসলে যা করা উচিত তাহল—কখনোই এদেরকে এক টাকাও দেয়া উচিত না। বরং এসব বিজ্ঞাপনের পোস্ট বা ভিডিও পোস্ট রিপোর্ট করতে হবে। আর এটাই এই মুহূর্তে প্রধান করণীয়,” বলেন তিনি।
তবে কেবল ব্যবহারকারীদের রিপোর্টিংয়ের ওপর নির্ভর করাই যে শেষ সমাধান নয়, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যাদের ভিডিও বা ছবি এভাবে এআই দিয়ে ফেইক তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তারা চরম বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন। কারণ ফেসবুকে রিপোর্ট করার পরও মেটা কর্তৃপক্ষ চাইলে সেই সব পোস্ট বা বিজ্ঞাপন সরাতে পারে, আবার নাও সরাতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা এবং টেক জায়ান্ট মেটার সাথে সমন্বয় বাড়ানোর জোর দাবি জানান রাজিব আহমেদ।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এ ব্যাপারে আরো শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে মেটার হেড অফিস অথবা এশিয়ার আঞ্চলিক অফিসের সাথে আরো যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কারণ তা না হলে সামনের দিনগুলোতে এটা অনেক বড় সমস্যা আকারে দেখা দেবে।”
ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর ব্যক্তিগত পর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আমার ভিডিও সংবলিত এই ধরনের ফেইক বিজ্ঞাপন দেখার সাথে সাথে পোস্ট দিয়েছি আমার প্রোফাইলে এবং তা অনেকেই শেয়ার করেছে, অনেকে রিপোর্ট করেছে। কিন্তু ফেসবুক যদি সেই পোস্ট বা ভিডিও না সরায়, তাহলে আমাদের তরফ থেকে কিছু করার থাকে না। পুলিশকেও জানিয়েছি সাধারণ ডায়েরি বা জিডির মাধ্যমে।”
ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সাথে সাথে এমন অপরাধ আরও বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। রাজিব আহমেদের মতে, “এআই যেভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে, তাতে করে সামনের দিনগুলোতে এমন ফেইক ভিডিও অনেক বেশি সহজে তৈরি করে প্রতারণার চেষ্টা চলবে। তাই এখন থেকেই এ ব্যাপারে সব দিকে সচেতন হতে হবে।”




















