স্মার্টওয়াচ দিয়ে সঠিকভাবে মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের মাত্রা মাপা যায় না। উচ্ছ্বাস বা উত্তেজনার মুহূর্তকেও এসব ডিভাইস প্রায়ই অতিরিক্ত চাপ হিসেবে ধরে নেয় বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে। কেউ আনন্দে উৎফুল্ল থাকলেও ঘড়িটি ভুলভাবে ‘অতিরিক্ত কাজের চাপে’ আছে বলে সতর্ক করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টওয়াচে মাপা স্ট্রেসের মাত্রা ও ব্যবহারকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে প্রায় কোনো মিল নেই। তবে ঘুমসংক্রান্ত তথ্য (যেমন কত ঘণ্টা ঘুম হয়েছে) তুলনামূলকভাবে মানুষের বাস্তবতার সঙ্গে অনেকটা বেশি মিলে গেছে।
নেদারল্যান্ডসের লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির সহযোগী অধ্যাপক আইকো ফ্রিড ও তার দল তিন মাস ধরে ৮০০ তরুণ-তরুণীর ওপর গবেষণা চালান। অংশগ্রহণকারীদের হাতে গারমিন ভিভোস্মার্ট ৪ স্মার্টওয়াচ পরিয়ে তাদের স্ট্রেস, ক্লান্তি ও ঘুমের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি দিনে চারবার তারা নিজের অনুভূত মানসিক চাপ, ক্লান্তি বা ঘুমভাবের মাত্রা জানায়, যা পরে স্মার্টওয়াচের ডাটার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
গবেষক আইকো ফ্রিড জানান, স্মার্টওয়াচে মাপা স্ট্রেসের মাত্রা ও অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব তথ্য প্রায় মেলেনি। তার মতে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ স্মার্টওয়াচ মূলত হৃৎস্পন্দন মাপে, যা শুধু চাপের কারণে নয় উত্তেজনা বা আনন্দের মুহূর্তেও বেড়ে যেতে পারে।
ফ্রিড বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক অনুভূতিতে মানুষের মস্তিষ্ক প্রায় একইভাবে সাড়া দেয়। যেমন গায়ে কাঁটা দেয়া উদ্বেগের ইঙ্গিতও হতে পারে, আবার তা আনন্দ বা উত্তেজনারও লক্ষণ হতে পারে।
ফ্রিড জানান, স্মার্টওয়াচের ‘বডি ব্যাটারি’ নামের ফিচারটি শরীরের ক্লান্তি বা শক্তির মাত্রা বোঝাতে সাহায্য করে। এটি স্ট্রেসের চেয়ে ক্লান্তির সঙ্গে বেশি মিল খুঁজে পায়।






















