আগামী দুই বছরে বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কম্পিউটিং ক্লাস্টার আনার লক্ষ্য নিয়েছে চীনের হুয়াওয়ে টেকনোলজিস। যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণের কারণে তুলনামূলক কম শক্তিশালী দেশীয় সেমিকন্ডাক্টরের ওপর নির্ভর করেই এ লক্ষ্যে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাংহাইয়ে গত সপ্তাহে হুয়াওয়ের বার্ষিক গ্রাহক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে অ্যাটলাস ৯৫০ ও অ্যাটলাস ৯৬০ ‘সুপারপড’ উন্মোচনের সময়সূচি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাটলাস ৯৫০ আসবে ২০২৬ সালের শেষ দিকে। আর অ্যাটলাস ৯৬০ আসবে ২০২৭ সালের শেষ দিকে। একাধিক ‘সুপারপড’ যুক্ত হয়ে ‘সুপারক্লাস্টার’ তৈরি হবে। ফলে এটি দিয়ে এআই মডেল চালানো সম্ভব হবে।
সুপারপড মূলত আন্তঃসংযুক্ত বহু কম্পিউটারের একটি গুচ্ছ, যেগুলোকে একসঙ্গে একটি বড় কম্পিউটারের মতো কাজ করানো হয়। হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান এরিক সু বলেন, ‘আমাদের কৌশল হলো নতুন কম্পিউটিং আর্কিটেকচার বানানো। আর সুপারপড ও সুপারক্লাস্টার তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি কম্পিউটিং চাহিদা টেকসইভাবে মেটানো।’
হুয়াওয়ের এ ঘোষণাকে রফতানি নিয়ন্ত্রণের ধাক্কা সামলে স্থানীয় উদ্ভাবনে জোর দেয়ার বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফরেস্টার রিসার্চের প্রযুক্তি বিশ্লেষক চার্লি দাই বলেন, ‘এটি হুয়াওয়ের স্বনির্ভরতা ও টিকে থাকার ক্ষমতার দিকে বড় এক পদক্ষেপ। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আরো চাঙ্গা হতে পারে।’
হুয়াওয়ের চিপ রোডম্যাপ অনুযায়ী, অ্যাসেন্ড সিরিজে ধাপে ধাপে নতুন এআই চিপ আসবে। অ্যাসেন্ড ৯৫০ আসবে ২০২৬ সালে। অ্যাসেন্ড ৯৬০ আসবে ২০২৭ সালে। পরের ধাপে ২০২৮ সালে সম্ভাব্য চিপ অ্যাসেন্ড ৯৭০। অ্যাটলাস ৯৫০ ও অ্যাটলাস ৯৬০ সুপারপডে এ চিপগুলোই ব্যবহার করা হবে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, একাধিক সুপারপড যুক্ত করে বানানো সুপারক্লাস্টার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চেয়েও শক্তিশালী হবে।






















