ঈদের আনন্দ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, ঠিক তখনই উৎসব ভাতা না পাওয়ার অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর। ঈদের আর মাত্র ১১-১২ দিন বাকি থাকলেও কবে মিলবে ঈদ বোনাস—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
রোববার (৮ মার্চ) শিক্ষক-কর্মচারীরা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পেলেও কবে নাগাদ উৎসব ভাতা দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির বেতন বিতরণ শুরু হলেও উৎসব ভাতা পেতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে দেওয়া উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ-সংক্রান্ত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা সেবার মান উন্নয়ন করা সরকারের দায়িত্ব। তবে অতীতে অবকাঠামো খাতে বেশি ব্যয়ের কারণে শিক্ষা খাতের বাজেট তুলনামূলকভাবে সংকুচিত হয়েছে, যার ফলে শিক্ষকদের জীবনযাত্রা ও সামাজিক অবস্থানে বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো হলে শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হবে এবং তারা আরও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তারা বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পান। ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকে এই ভাতা ৬০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
উৎসব ভাতা অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বছরে অতিরিক্ত ১৯০ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ মোট অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২৮৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
তবে ঈদের আগে এই ভাতা কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না।






















